ক্যাটল স্টেশাল ট্রেনে পশু পরিবহন দুইদিনে লাখ টাকা আয় পশ্চিম রেলের

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২১, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ফাইল ছবি

এবছর প্রথম পশ্চিম রেলওয়ের চাঁপাই-রাজশাহী রুটে চলেছে ‘ক্যাটল স্টেশাল ট্রেন’। ট্রেনটিতে পরিবহন করা হয়েছে কোরবানির পশু। এই অঞ্চলের খামারি ও ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচে কোরবানির উপযোগী পশু বিক্রির জন্য ঢাকায় নিয়েছিলেন। ট্রেনটি মাত্র দুইদিন চলেছে। তাতেই আয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলওয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। জনসাধারণের সুবিধার্থে সরকার এই ট্রেনটি চালু করে। এই অঞ্চলের খামারি-ব্যবসায়ী হাটে ও সাধারণ মানুষ ঢাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে কোরবানির পশু পাঠিয়েছেন। এতে একদিকে কম খরচে, অন্যদিকে নিরাপদে। আগামি বছর বড় পরিসরে এই ‘ক্যাটল স্টেশাল ট্রেন’ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, ইদুল আজহা পালনের মধ্যদিয়ে দেশবাসী করোনার মধ্যে চারটি ইদ উদযাপন করেছে। তার মধ্যে দুটি ইদুল ফিতর ও দুটি ইদুল আজহা। মহামারীর কারণে দেশে দফায় দফায় চলছে কঠোর লকডাউন। তারপরও কমছে না করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা; থামছে না মৃত্যুর মিছিল। ঠিক এমন সময়ে দেশবাসী পালন করলো পবিত্র ইদুল আজহা। করোনার এই সময়ে ইদের ঠিক আগ মুহূর্তে কোরবানির পশু পরিবহনে চিন্তিত ছিলেন পশু খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
এমন সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে চালু করা হয় ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’। চলতি মাসের গত ১৭ ও ১৮ জুলাই পশু পরিবহন করেছে ট্রেনটি। এসময় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রায় এক লাখ টাকা আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন- পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকশী) মো. নাসির উদ্দিন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বাণিজ্যিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই বিকালে রাজশাহী থেকে ঢাকায় পশু পরিবহনের জন্য ‘ক্যাটল স্পেশাল’ নামের এই ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিলেন- পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিহির কান্তি গুহ্। কোরবানির পশু পরিবহনের সুবিধার্থেই মূলত এই ট্রেন সার্ভিসটি চালু করা হয়েছিল। উদ্বোধনের দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে স্পেশাল ওই ট্রেনের ৪টি ওয়াগনে ৮০টি (রেলওয়ের আয় ৪৭ হাজার ৩২০ টাকা), রাজশাহী থেকে ১টি ওয়াগনে ২০টি গরু (পশ্চিম রেলের আয় ১১ হাজার ৮৩০ টাকা) এবং বড়াল ব্রিজ স্টেশন থেকে থেকে ১টি ওয়াগনে ১০০টি ছাগল (পশ্চিম রেলের আয় ৯ হাজার ২৩০ টাকা) ঢাকায় পরিবহন করা হয়। উদ্বোধনের প্রথম দিনই মোট ১০০টি গরু ও ১০০টি ছাগল পরিবহনে পশ্চিম রেলের আয় হয়েছে ৬৮ হাজার ৩৮০ টাকা।
সূত্রটি আরও জানায়, দ্বিতীয় দিন ১৮ জুলাই (রোববার) রাজশাহী থেকে ১টি ওয়াগনে ১৪টি গরু ও ৬টি ছাগল (পশ্চিম রেলের আয় ১১ হাজার ৮৩০ টাকা) এবং রাজশাহীর বাঘার আড়ানী স্টেশন থেকে একটি ওয়াগনে ২০টি ছাগল (পশ্চিম রেলের আয় ১১ হাজার ৮৩০ টাকা) ঢাকায় পরিবহন করা হয়। দ্বিতীয় দিন মোট ১৪টি গরু ও ২৬টি ছাগল পরিবহনে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আয় হয় ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা। সবমিলিয়ে এই দুই দিনে ‘ক্যাটল স্টেশাল ট্রেন’ থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মোট ৯১ হাজার ৯৮০ টাকা আয় হয়।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকশী) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘করোনা মহামারীর এই সময়ে লকডাউন চালু থাকায় ট্রেন চলেনি। তাই পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে জনসাধারণের সুবিধার্থে এই বছরই প্রথম রাজশাহী থেকে ঢাকায় মাত্র দুই দিনের জন্য ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’ চালু করেছিল।
তিনি আরো জানান, এতে পশুগুলো যেমন নিরাপদে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে তেমনি যারা পশুগুলো ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন তারা অন্ততপক্ষে পরিবহনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন। সবকিছু মিলেই জনগণের সুবিধার কথা চিন্তা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো।’