ক্যালেন্ডারে মহাত্মা গান্ধীকে সরিয়ে মোদী!

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অফিসের ক্যালেন্ডারে মহাত্মা গান্ধীর ছবি সরিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি বসিয়েছে দেশটির সরকারি খাদি ও গ্রাম শিল্প কমিশন (কেভিআইসি)। সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।
কেভিআইসি’র কর্মীরা বলেন, এ সিদ্ধান্ত তারা দুঃখ পেয়েছে। এই কমিশনের পক্ষ থেকে দেশটির গ্রাম পর্যায়ের শিল্পকে সহায়তা করা হয়।
কেভিআইসি কর্তৃপক্ষর যুক্তি, মোদীও গ্রাম ভিত্তিক শিল্পের বড় সমর্থক। তিনি  খাদি পোশাককে সাধারণের মধ্যে জনপ্রিয় করেছেন। এ কারণেই তারা মোদীর ছবি ব্যবহার করেছেন।
ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ খাদি কাপড় পরতেন গান্ধী। ঐতিহ্যগতভাবেই কেভিআইসি-র ক্যালেন্ডার ও স্টেশনারিতে গান্ধীর ছবি ব্যবহার করা হত।
কেভিআইসি কর্তৃপক্ষ এবার মোদীর ছবি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এক বিবৃতিতে বলেছে, “গান্ধীকে কখনোই প্রতিস্থাপণ করা সম্ভব না।” কিন্তু এই বিবৃতিও কর্মীদের ক্ষোভ কমাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে কেভিআইসি’র প্রধান কার্যালয়ে অনেক কর্মী মোদীর ছবি সম্বলিত নতুন স্টেশনারি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং মৌন প্রতিবাদ করে।
এক কর্মী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ক্যালেন্ডার ও ডাইরিতে মোদী ছবি ছাপার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু সেখানে গান্ধীর ছবি খুঁজে না পাওয়া আমাদেরকে হতাশ করেছে।”
“কেন এখানে গান্ধীর জায়গা হলো না আমরা শুধু সেটাই জানতে চাই। গান্ধী কী এখন আর খাদি শিল্পের সঙ্গে প্রসঙ্গিক নন।”
কেভিআইসির চেয়ারম্যান বিনয় কুমার সাক্সেনা আইএএনএস নিউজ এজেন্সিকে বলেন, “পুরো খাদি শিল্পের ভিত্তি গান্ধীর দর্শন, পরিকল্পনা এবং আদর্শ। তিনি কেভিআইসির আত্মা। তাই ওনাকে অবজ্ঞার প্রশ্নই আসে না।”
“তবে কমিশন মোদীর ছবি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ, তিনি খাদি কাপড়ের সবচেয়ে বড় পণ্যদূত। এছাড়া ভারতের গ্রামগুলোকে স্বনির্ভর করার তার যে লক্ষ্য সেটা কেভিআইসির সঙ্গে মেলে।” ভারতের বিরোধী দলগুলো কেভিআইসির এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরভিন্দ কেজরিওয়াল টুইটারে বলেন, “এক জীবনে গান্ধী হওয়া সম্ভব নয়।”
“শুধু চরকা নিয়ে ছবি তুলেই কারও পক্ষে গান্ধী হওয়া সম্ভব না, এটা করে শুধুমাত্র কৌতুকের বিষয়ে পরিণত হওয়া যায়।”- বিডিনিউজ