ক্রিকেটের মায়ায় আইন ক্যারিয়ারকে ছুটি!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইয়াসমিন দাসওয়ানি। হংকংয়ের নারী ক্রিকেটার। ক্রিকেট খুব টানে। বড্ড মায়া এই খেলায়। নেশা। আর তাই আইনের ক্যারিয়ার বাদ দিয়ে মগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন ক্রিকেট খেলায়। আর এই সপ্তাহে তার দুটি প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড জানিয়ে গেলো, মোটেও ভুল সিদ্ধান্ত নেননি ইয়াসমিন। ঠিক। সবই ঠিক।
এখন অবশ্য রোববারের ইস্ট এশিয়ান উইমেন্স টি-টোয়েন্টি কাপে জাপানের বিপক্ষে ফাইনালে গভীর মনযোগ এই ক্রিকেটারের। ইয়াসমিন চান হংকংকে বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাই করাতে। এমন অর্জন শুধু ইয়াসমিনের জন্য নয়, তাদের দল ও দেশের জন্য হবে অভূতপূর্ব সম্মান আর মর্যাদার। স্বপ্নপূরণের মতো। ২৩ বছরের ইয়াসমিন কি তার ত্যাগের বিনিময়ে এইটুকু পাবেন না?
‘আমার সতীর্থরা একে অন্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। তাদের পূর্ণ সময়ের চাকরি করতে হয়। অনেকের আয়ও খুব কম। আমরা পেশাদার অ্যাথলেট নই। আমাদের তাই কাজের আগে ও পরে অনুশীলন করতে হয়।’ কেমন প্রতিবন্ধকতার পাহাড় টপকে হংকংয়ের নারী ক্রিকেটারদের লড়ে যেতে হচ্ছে সেটাই উঠে আসে ইয়াসমিনের কথায়, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে, বিশ্বকাপে পৌঁছাতে পারলে এতোসব ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের মানে থাকবে।’
জাপানের সাথেও ইয়াসমিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে তার দলের আশা। আইন পেশায় পুরোপুরি ঢুকে যাওয়ার আগে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছেন ইয়াসমিন। ইংল্যান্ডের ডারহাম ইউনিভার্সিটি থেকে তার আগে গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। লন্ডনে ফুলটাইমার আইনজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করার কথা ছিল তার। কিন্তু ওই নিশ্চিন্ত পেশার চেয়ে দেশ হংকংয়ের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের লড়াইটা তার কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। এক বছরের জন্য নিজেকে তাই আইন পেশা থেকে ছুটি দিয়েছেন। মন দিয়েছেন ক্রিকেটেই শুধু। চোখ রেখেছেন নভেম্বরে ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় এশিয়া অঞ্চলের আইসিসি টি-টেপয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। যেখানে তাদের লড়াই স্বাগতিক থাইল্যান্ড, নেপাল, চিন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। ওখানকার বিজয়ীরা বৈশ্বিক বাছাই টুর্নামেন্টে খেলবে। কঠিন পথ।
ইস্ট এশিয়ান টুর্নামেন্টে দারুণ ছাপ রেখেছেন ইয়াসমিন। চিনের বিপক্ষে ৮৬ রানের জয়ের ম্যাচে ব্যাট হাতে তার অবদান অপরাজিত ৭১ রানের। এরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন ৭৭ রানের ইনিংস। হংকং জিতেছে ৯৩ রানে। উঠে গেছে ফাইনালে। বাজে আবহাওয়ার জন্য শনিবার নির্ধারিত জাপানের সাথে ম্যাচ বাতিল হয়। তবে তার আগেই দুই দল ফাইনালে উঠে গেছে।
ফাইনালে নিজের ফর্ম ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী ইয়াসমিন কৃতজ্ঞ এই জন্য যে হংকং জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন, ‘আগে আমি তেমন ভালো খেলতে পারিনি। দল থেকে বাদ পড়েছিলাম। তাতে দলে ফেরার জন্য আরো পরিশ্রম করতে থাকি। এই প্রতিযোগিতাটা কঠিন। আমার আনন্দ এখানেই যে ফিরে হংকংয়ের জন্য মূল্যবান কিছু রান করতে পারছি।’