ক্রেতা বিক্রেতার ভিড় || তানোরে বাজারগুলোতে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


তানোরে জমে উঠেছে গরু বেচাকেনা-সোনার দেশ

ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন আছে। কয়েক বছর ধরে লোকসান দেয়ার পর তানোরে গোখামারি ও কৃষকরা এবার কোরবানির বাজারে লাভের আশা করছেন। কিন্তু লাভের সেই আশা মিডিয়ার অপপ্রচার খামারি ও কৃষকদের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলায় সর্বত্র ইতোমধ্যে কোরবানির পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যপারিরা স্থানীয় হাট ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু কিনছেন।
গত সোমবার পর্যন্ত গরু ও ছাগল বিক্রিতে স্থানীয় গোখামারী ও কৃষকেরা বর্তমান বাজার রেট ভালো পাচ্ছে না বলছেন। অপরদিকে ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কায় সবার মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্নস্থানের হাটগুলোতে গোখামারি ও কৃষকরা গরু নিয়ে গিয়ে বেচা শুরু করেছে। কেউ কেউ আবার আগামী হাটগুলোতে গরু বাজারযাত করবেন বলে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর তারা এ গরু ঈদের ৫ থেকে ৬ দিন আগে নির্দিষ্ট উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বলে জানা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চাহিদার বড় একটি অংশ এই অঞ্চলের গরু দিয়ে পূরণ করা হয়। গত ১০ বছর এ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এলাকার গোখামারি ও কৃষকরা।
গত তিন বছর কোরবানি পশু বিক্রিতে ধস নামায় এ অঞ্চলের গোখামারি ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছেন, আবার কেউ গরু নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ অঞ্চলের গরু খামারি ও গরু ব্যবসায়ী পরিবারদের মধ্যে কোরবানি ঈদের পর চাপা কান্নাও শোনা গেছে। ব্যাংকের চড়া সুদের ঋণ আর গোখাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েছিলন।
গত ১০ বছরে বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে গরু মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে পশু উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়ে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এবার স্থানীয় কৃষক, গোখামারিরা আগে চিন্তা থেকে সরে ভারতীয় মোটাতাজাকরণ গরুর চেয়ে দেশি গরুর প্রতি বেশি ঝুঁকেছেন। এবার তুলনামূলক উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোরবানি বড় গরুর সংখ্যা কম। অধিক লাভের আশায় বেশি ব্যয়ে বড় গরু পালনের অনিহা দেখা গেছে। তাই অন্য বছরের তুলনায় এবার বড় গরু পালন অধেক নেমে এসেছে।
গত তিন বছরে বড় গরুর চেয়ে দেশি এবং ছোট গরুর ব্যাপক চাহিদার কারণে বেশির ভাগ খামারি ও কৃষক ছোট এবং মাঝারি সাইজের গরু পালনে বেশি সফল বলে মনে হচ্ছে। খামারি ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা ও লালন পালনের মাধ্যমে কোরবানি পশু প্রস্তুত করতে হয়। রোগে আক্রান্ত গরুর উন্নত চিকিৎসার এবং খাবারের দিবে বিশেষ নজর রাখার কারণে গরু পালনে ব্যয় বেড়ে যায়।
গত সোমবার উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুরহাট মুণ্ডমালা হাটে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের আগেই এ গরু হাটে মানুষের প্রবেশ খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তানোর আমনুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ হাটির আশেপাশে কয়েক বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গরু ছাগল ও মহিষ আমদানি হতে দেখা গেছে।
কোরবানি গরু কিনতে আশা ঢাকার ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান জানান, রোযার পর থেকে কম-বেশি কোরবানির জন্য পশু কেনা শুরু হয়েছে। আর ব্যাপারিদের জন্য এখন হাট শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক গরু কিনেছি। এবার ছোট এবং মাঝারি সাইজের গরু বেশি আমদানি হয়েছে। এবং দাম তুলনামূলম ভালো বলে তিনি জানান।
উপজেলার চিমনা গ্রামের রুস্তুম গোখামারির মালিক গোলাম কিবরিয়া জানান, পরপর তিনবার মারাত্মক লোকসানে এলাকার মানুষের শিক্ষা হয়েছে। এবার বড় গরু চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি। আমি নিজেই এবার ১৫টি ছোট ও মাঝারি গরু পালন করেছি। কোরবানির দিনের দই থেকে তিন দিন আগে বাজারে নিয়ে যাব। ভারতীয় গরু না এলে এবার কৃষক ও গোখামারিরা লাভবান হবে বলে আশা রাখছি। তবে কিছু মিডিয়া কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে যে অপপ্রচার চালিয়েছে, এতে করে খামারিদের কিছু সমস্যাতে পড়তে হয়েছিল। বর্তমানে তা কাটিয়ে উঠেছে। নিয়মিত গরুর পরিচর্যা করলেই মোটাতাজাকরণ করা যায়। এতে বিষক্ত কোন ওষুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মজিদ জানান, গরু মোটাতাজাকরণে বিটামিন ও আমিষ খাদ্যে গরুর পুষ্টি আসে। ছয় থেকে আট মাস নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করলেই অল্পদিনে গরু মোটাতাজা হয়ে উঠে। তবে অল্পকিছু ব্যবসায়ী গরু হাটে তোলার আগে বিষক্ত ওষুধ খাওয়ায়। এ কারণে গরু যে কোন মুহূর্তে অসুস্থ হয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এ কারণে কোন ব্যবসায়ী যেন এ ধারনের বিষক্ত ওষুধ কোরবানি পশুকে খাওয়ায়ে হাটে তুলে বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য প্রতিটি পশুহাটে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে চিকিৎসক রেখেছি। তাদের থেকে চিকিৎসা ছাড়পত্র নিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারবে। আর ছাড়পত্র ছাড়া বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ