ক্লাস চলে নড়বড়ে টিনের চালাঘরে || অপসারণ হয় নি এক যুগেও

আপডেট: January 27, 2017, 12:10 am

জয়পুরহাট প্রতিনিধি



জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউপির সুবিধাবঞ্চিত মোহাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নড়বড়ে পুরাতন ভবনে চলে শিশুদের ক্লাস। এক যুগ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান চললেও  অপসারণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় নি।
সরেজমিনে স্কুল ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ এ ভবনের মধ্যেই ক্লাস করছেন। যেকোন সময় ভবনটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নেই স্কুলের কোন সীমানা প্রাচীর। খেলাধুলা করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী গভীর পুকুরে পড়েও প্রাণহানি মতো ঘটনা ঘটতে পারে। স্কুলের খেলাধুলার মাঠটিরও নাকাল অবস্থা। মাঠ সংলগ্ন স্কুলের নিজস্ব জমির মাটি ভরাট করতে পারলে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার মানসম্মত মাঠ পাবে।
এ বিষয়ে মোহাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. তাসপিয়া বেগম জানান, তিনি বিদ্যালয়টিতে ২০১৪ সালের ২৮ জুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন তিনি জেনেছেন, ২০০৫ সাল থেকে পুরাতন ভবনটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরপরে ২০১৫ সালের গোড়ারদিকে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভায় সকল বিষয় তুলে ধরেন এবং গৃহীত প্রস্তাবসহ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণের জন্য কালাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে ভবন ছাড়াও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও মাঠ সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের গোড়ার দিকে অভিভাবক সমাবেশে জেলার সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত হলে তাকে বিষয়গুলি জানানো হয়েছিল। তারপরও এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। তবে তারা আবারও সকল বিষয়ে নতুন করে আবেদন দেবেন।
কালাই উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবু যতন কুমার দেবনাথ বলেন, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। তাই ২০১৫ সালের আবেদনের বিষয়টি তার জানা নেই। নতুন করে আবেদন পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, চলতি বছরেই ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবন অপসারণের ব্যবস্থা, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও খেলাধুলার মাঠ সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. বদরুজ্জেহা বলেন, জেলার এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে যথাযথ নিয়মবালী অনুসরণ করে নিলামে দেয়ার কথা বলা আছে। তবে মোহাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবন অপসারণের ক্ষেত্রে এ সব করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।