ক্ষতির মুখে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর সে কারণে পেরে উঠছে না প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের হাতে চামড়া যাওয়ায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ বলা চলে নগরীতে এবার নতুন মৌসুমি ব্যবসায়ীদের প্রভাবের ফলে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা। প্রকৃত ব্যবাসয়ীদের অভিযোগ রয়েছে সরকার কর্তৃক আগে থেকেই চামরা নির্ধারণ করে দেয়া থাকলেও বেশি দামে কিনেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
নগরীর চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, চামড়া কেনার ক্ষেত্রে সরকার থেকে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। লবন মাখানোর গরুর চামড়া ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। ছাগলের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ টাকা প্রতি বর্গফুট। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সেই নির্ধারিত দামে চামড়া কিনছে না। দামের হেরফের তারা ইচ্ছে মতো বাড়াচ্ছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চামড়া কিনতে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গত দুই মৌসুম থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির প্রায় ২০ কোটি টাকা বয়েকা পড়ে আছে বলে জানান। তার মধ্যে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারনে বেশি দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে তাদের। এতে আবারো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ধারণা করছেন তারা।
রাজশাহীতে যেখানে একটি বড় গরুর চামড়ার দাম সরকারি হিসেবে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হয়। সেখানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এক থেকে ১২’শ টাকায় কিনেছেন। এতে দাম দিয়ে চামড়া কিনে চামড়া ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমন মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও লোকশানের মুখে পড়ছে। বেশি লাভের আশায় নতুন ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া কেনায় এ ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রকৃত ব্যবসায়ীদের।
রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ জানান, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মধ্যে চামড়ার দাম নিয়ে বিভ্রান্ত থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের। গত দুই মৌসুমের টাকা আটকে থাকার কারণে কমে গেছে তাদের পুঁজি। অল্প পুঁজি নিয়ে কোরবানির বাজারে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চামড়া কেনা অনেক কঠিন একটি কাজ।
তিনি আরো জানান, সারাদেশের পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলের চারিদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পশু কোরবানির সংখ্যা এবারে অনেকটা কমে এসছে। রাজশাহীতে প্রতি কোরবানি ঈদে প্রায় প্রায় লাখ খানেক গরু-মহিষ ও প্রায় দেড় লাখ থেকে পৌণে দুই ছাগল-ভেড়া কোরবানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে সংখ্যাটা অনেক কমে এসেছে। এরমধ্যে গরু-মহিষের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ও ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে প্রায় এক লাখ ২০ হাজারে মতো নেমে এসেছে। পশুর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ