ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব পালিত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:


‘হামনিকের সংস্কৃতি হামনিকের পরিচয়’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে পূর্নিমার তিথিতে রীতি অনুযায়ী উরাঁও নৃগোষ্ঠি সমাজের ‘কারাম’ উৎসব পালিত হয়েছে। রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) গোদাগাড়ী উপজেলার শাহানাপাড়া ফার্সাপাড়া উষার আলো যুব সংঘ মাঠে ওঁরাও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “কারাম” উৎসব উপলক্ষে নিশি পালন, কারাম পুজার্চনা, অধিবাস, কাহিনী, নাচ, গান, গীত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, মধ্যাহ্ন ভোজ, পুরষ্কার বিতরণী, কারাম বিসর্জন, আলোচনা সভা ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।

এই উৎসবে গোদাগাড়ী উপজেলার ১৮ ওঁরাও জনজাতির গ্রাম অংশগ্রহণ করে। উক্ত ঐতিহ্যবাহী “কারাম” উৎসবের উদ্বোধন করেন কাস্টমস গোয়েন্দা শাখার অব. সহকারী পরিচালক সুনন্দন দাস রতন। সভায় সভাপতিত্ব করেন, রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি শ্রী সরল এক্কা। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ৭ নম্বর দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দীন সোহেল, সিসিবিভিওর পরিচালনা কমিটির সদস্য, রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ গুণিগ্রামের মোড়ল প্রসেন এক্কা, গোদাগাড়ী উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণকুমার সরকার, সিসিবিভিওর কর্মকর্তা নিরাবুল ইসলাম, দেওপাড়া ইউপি সদস্য প্রদীপ এক্কা ও নিমকুড়ি রক্ষাগোলা সংগঠনের মোড়ল নিরঞ্জন কুজুর। তিনদিন ব্যাপি এই অনুষ্ঠানে ছিল নিশি পালন, পূজার্চনা, কারাম বিনতি, কারাম কাহিনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও কারাম ডাল বিসর্জন। যে কারণে ওঁরাও সম্প্রদায় কারাম পূজা করে তা হলো বর্ষায় খাল-বিল ও নদী নালায় পূর্ণতা আসে। গাঢ় সবুজ রং নিয়ে প্রকৃতিতে আসে তারুণ্য খাল-বিলে ফোটে শাপলা-শালুক। ধান রোপণের পর ক্ষ্রদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অফুরন্ত অবসর। ঠিক সেই ভাদ্র মাসে আসে ওঁরাও সম্প্রদায়ের অন্যতম বার্ষিক উৎসব কারাম। বৃক্ষের পূজার উৎসব। উৎসবে ওঁরাও কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী নাচে-গানে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। কামনা-বাসনা করেন, আর চেষ্টা করেন একটু ভালোবাসার। কারাম উৎসব পালনের জন্য ওঁরাও নর-নারী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পূজার ১ম দিন উপোস থাকেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি উৎসর্গ করার পর সেগুলো আমন্ত্রিত অতিথি ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। উপোসের মধ্য দিয়ে কারাম পূজা শুরু করেন ওঁরাও নারীরা। পরে মাদল, ঢোল, করতাল ও ঝুমকির বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে এলাকা থেকে কারামগাছের (খিল কদম) ডাল তুলে আনেন। এরপর তাঁরা একটি পূজার বেদি নির্মাণ করেন। সূর্যের আলো পশ্চিমে হেলে গেলে সেই কারামগাছের ডালটি পূজার বেদিতে রোপণ করা হয়। পুরোহিত উৎসবের আলোকে ধর্মীয় কাহিনি শোনান। সেই সঙ্গে চলে কাহিনীর অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা শেষ হলে বেদির চারধারে ঘুরে ঘুরে যুবক-যুবতীরা নাচতে থাকেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন, পাথরঘাটা রক্ষাগোলা সংগঠনের মোড়ল মানিক এক্কা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ