ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার- বিভাগীয় কমিশনার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি বলেছেন- বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি এ দেশের অমূল্য সম্পদ। সাংস্কৃতিক নানা উপাদান এসব জাতিগোষ্ঠীর সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। তাই জাতীয় উন্নয়নের জন্যই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। এদেশে কেউ সংখ্যা লঘু বা সংখ্যা গুরু নয়- সবাই সমান। একথাটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলে গেছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপদ্রষ্ঠা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির হলরুমে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সংস্কৃতি সংরক্ষণে করনীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির উপাদান মানুষে মানুষে বিভাজন রুখতে পারে। তাই এর সম্প্রসারণ দরকার। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোডম্যাপে রয়েছে। বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার ঘোষনা দিয়েছেন। সেই ঘোষনা অনুযায়ী তাঁরা সবাই কাজ করছেন। এর মধ্যে কোন জাতিকে ছোট করে দেখে পিছিয়ে রেখে কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এরপর প্রধান অতিথি বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির প্রধান ফটক ও সংস্কারকৃত হলরুমের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নাচ ও গান উপভোগ করেন।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন প্রামানিক, যোগেন্দ্র নাথ সরেন ও চিত্তরঞ্জন সরদার।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সংস্কৃতি সংরক্ষণে করনীয় ও বাধা বিষয়বস্তুর উপরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু। এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সুসেন কুমার শ্যামদুয়ার ও কলেস্তিনা হাঁসদা, সংগীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেন ও কবীর আহম্মেদ বিন্দু এবং সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা, থানা ও উপজেলা থেকে আগত সঁওতাল, উরাও, মুন্ডা, মাহ্লে, মাহাতো কোল, কডা, গড়াইত ও বর্মনসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদিবাসী শিক্ষার্থীবৃন্দ। সবশেষে সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ মূল প্রবন্ধের উপরে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ