ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ আয় বৈষম্যে কমাতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০১৯, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৫ অক্টোবর চলতি বছরের ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ প্রকাশ করেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য আপাত ভাল লাগলেও অগ্রগতি যে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নয়Ñ সেটাও পরিষ্কার হয়েছে। বিষয়টি আগামীতে আরো কর্ম-উদ্দীপনা, কর্মউদ্যোগ ও কর্মকৌশলের ব্যাপারে অধিক মনোযোগী হওয়ার অনুপ্রেরণাও তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ক্ষুধার রাজ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ; তবে নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের এই অবস্থান গত কয়েক বছর ধরে আটকে আছে একই বৃত্তে। ২০১৮, ২০১৭ ও ২০১৬ সালে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ৮৬, ৮৮ ও ৯০ নম্বরে।
অপুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজনের শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার- এই চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয়েছে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে।
এই সূচকে সবচেয়ে ভালো স্কোর হল শূন্য। স্কোর বাড়লে বুঝতে হবে, ক্ষুধার রাজ্যে সেই দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর স্কোর কমা মানে, সেই দেশের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু যে হারে কমছে সেটা খুব আশাব্যঞ্জক বলা যাবে না। যদিও ভারতের মত অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে আছে। তবে এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে যে, নেপাল ও মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। এই পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে নতুন কর্মকৌশল তৈরি ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ক্ষুধা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ উদোগগুলো এখনই নিতে হবে। দেশে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে এটা যেমন সত্য, তেমনি আয় বৈষম্যও বেড়েছে এটাও সত্য। ধনি ও দরিদ্রের ব্যবধান একটা যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে না পারলে ক্ষুধা সূচকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ দিকটাও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ