কয়েক মিলিয়ন ডোজ টিকা নষ্ট হবে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর উদার ভাবনা কই?

আপডেট: জুন ১০, ২০২১, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে দেশে দেশে একরকম হাহাকার চলছে। অবশ্য ধনি দেশগুলো এর বাইরে। মূলত ধনি দেশগুলোই করোনা ভ্যাকসিনের বাণিজ্যটা সামলাচ্ছে। ইতোমধ্যেই তারা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে নিয়েছে। যদি এ ধরনের বাণিজ্যিক মনোভাব অমানবিক বলেই আখ্যায়িত করা হচ্ছে। অনুন্নত ও উন্নয়কামী দেশগুলো স্ব স্ব দেশে করোনা ভ্যাকসিনের যোগান নিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছে। ভারতের মত দেশও এর বাইরে নয়।
করোনাভাইরাস বৈশ্বিকভাবেই ছড়িয়েছে। বিশ্বের এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে করোনার থাবা পড়েনি। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপি ৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। জাতিসংঘ অনুমান করছে ঘোষিত মৃত্যু-সংখ্যার চেয়ে এ হার তিনগুন পর্যন্ত হতে পারে।
বিশ্বকে বিপর্যস্থ করে তোলা এই করোনা মহামারি সব দেশের অর্থনীতিতে কমবেশি ধসের সৃষ্টি করেছে। তবু রাজনীতি ও বাণিজ্যের দুর্বার আকর্ষণে করোনার সংক্রমণ কোনোরূপ মূল্যবোধের সৃষ্টি করতে পারেনি। মানবিক দিকটি অত্যন্ত নির্দয়ভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। আমাদর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সূচনা লগ্নে দাবি করেছিলেন যে করোনা ভাইরাস যেহেতু বৈশ্বিক Ñ সেহেতু ভ্যাকসিনকেও বিশ্ব মানুষের অগ্রাধিকার বিবেচনা করা হোক। এমন দাবি আরো উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু সেটা নিয়ে উন্নত বিশ্ব কোনো আগ্রহই দেখায় নি। অথচ বিষয়টি তেমনটি হলে বিশ্বকে আজকের এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো না।
রাজনীতি ও অতুগ্র বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা অমানবিক ও সভ্যতার পরিপন্থি তা জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল সংস্থা ইউনিসেফ-এর ধারণা থেকেই উপলব্ধি করা যায়। ইউনিসেফ বলছে- ধনি দেশগুলো যদি টিকার সঠিক বিতরণ না করে তাহলে কয়েক মিলিয়ন ডোজ টিকা নষ্ট হবে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দাতব্য সাংস্থাটি বলছে, জনসংখ্যার বিচারে ভ্যাকসিনের বণ্টন খুবই জরুরি। ধনি দেশগুলো নিজেদের চাহিদার তুলনায় বহুগুণ ভ্যাকসিন মজুত করে রেখেছে। ফলে তুলনামূলক গরিব দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন পাচ্ছে না।
এছাড়া ধনি দেশগুলো টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আগাম টিকা চেয়ে রেখেছে। যুক্তরাজ্যসহ আরও কিছু দেশ টিকা বিতরণের যে প্রতিজ্ঞা করে রেখেছে তা এখনই পালন করা উচিত। কারণ বহু গরিব দেশে টিকার সঙ্কট রয়েছে। ইউনিসেফ জহানচ্ছে- যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই ৪শ মিলিয়ন ডোজ টিকার মজুত রেখেছে। যদিও দেশটির বেশিরভাগ মানুষই টিকা গ্রহণ করেছেন। তাই দেশটির উচিত মজুদ করা টিকাগুলো বিতরণ করা। করোনাভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বেশ কয়েকবার রূপ বদল করে আরও প্রাণঘাতি হয়ে উঠেছে এই ভাইরাস।
যুক্তরাজ্যসহ জি ৭ ভুক্ত দেশগুলো এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে। ইতোমধ্যে রাজনীতি ও বাণিজ্যের যা কিছু সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন একটু মানবিক ভাবনায় জাতিসংঘের আহবানে সাড়া দিয়ে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো এগিয়ে আসবে তেমন প্রত্যাশা করাই যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ