খনন কাজ শুরু, প্রাণ ফিরবে ফকিন্নী নদীর

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি :


নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদ থেকে উৎপত্তি ফকিন্নী নদী এক সময় ছিল স্রোতস্বিনী। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি পড়ে তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্যতা হারায় নদীটি। বর্ষা মৌসুমে দু-তিন মাস পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তবে নদীটির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মান্দা উপজেলার ত্রিমোহনী থেকে হুলিখালি স্লুইসগেট পর্যন্ত সাড়ে ১৪ কিলোমিটার অংশের নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় আলোচনা সভা ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক অনলাইনে যুক্ত হয়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মান্দা উপজেলা পরিষদের এমদাদুল হক মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক, পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আজ, নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী, ইউপি সদস্য প্রীতি রানী হালদার প্রমুখ।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, মান্দা উপজেলার ত্রিমোহনী থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত ফকিন্নী নদীর দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটার। বাগমারার তাহেরপুরে ফকিন্নী নদী বারোনই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

ফকিন্নী নদী তীরবর্তী মান্দার নুরুল্যাবাদ, বিষ্ণুপুর ও কালিকাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই নদীতে এক সময় সারা বছর নাব্যতা থাকতো। নৌকায় করে মানুষেরা কৃষিজাত পণ্য স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে যেতেন। কম খরচে মালামাল পরিবহন করা যেত। কিন্তু এখন বর্ষার সময় দু-তিন মাস ছাড়া নদীতে পানিই থাকে না। বছরের আট থেকে নয় মাস নদী পানিশূন্য হয়ে শুষ্ক মাঠে পরিণত হয়। ওই সব স্থান দিয়ে লোকজন হেঁটে নদীটি পার হয়।

উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, ‘আগে ফকিন্নী নদীর পানি সারা বছর টলমল করতো। নদীর ধারের লোকজন সারা বছর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদীর পানি দিয়ে তীরবর্তী কৃষি জমিতে আবাদ করতেন কৃষকেরা। কিন্তু এখন নদীতে পানিই থাকে না। এই খনন কাজ সম্পন্ন হলে নদীটি হয়তো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।’

নওগাঁ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, ‘দেশের ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়-সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ফকিন্নী নদীর ১৪ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার অংশের পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। ২৩ মিটার প্রস্থ ও ২ মিটার গভীর করে নদীটি খনন কাজ করা হবে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমটিআই-ইউপি (জেবি)। আগামী বছরের ৩১ মের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আশা করি, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীটি প্রাণ ফিরে পাবে।’