৭১ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট: জুলাই ৫, ২০২৪, ১০:২৫ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। উচ্চশিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার ৭১ বছর অতিক্রম করে আজ শনিবার (৬ জুলাই) ৭২ বছরে পা দিল দেশের স্বনামধন্য এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘদিন যাবত গুণগত শিক্ষা প্রদান, গবেষক তৈরি, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়টি রেখে চলেছে অসামান্য অবদান।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর দেশের সব কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় স্যাডলার কমিশন রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১৯৫৩ সালে ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৫৩’ পাস হয়। ওই বছর ৬ জুলাই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বর্তমানে ১২টি অনুষদের আওতায় ৫৯টি বিভাগে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। এমফিল ও পিএইচডিসহ উচ্চতর গবেষণার জন্য এখানে রয়েছে ৬টি ইন্সটিটিউট। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গবেষণা কাজে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনার দায়িত্বে রয়েছেন ১ হাজার ৯৮ জন শিক্ষক। এছাড়া কর্মকর্তা রয়েছেন ৮০৮ জন ও সহায়ক কর্মচারী ৭৭৬ জন। রয়েছেন একজন ইমেরিটাস ও একজন বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অসামান্য অবদান। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা। এছাড়া ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবিবুর রহমান, অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, মীর আবদুল কাইয়ুমসহ অনেকে।

এ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে অসংখ্য খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, কবি, লেখক, শিল্পী, খেলোয়াড়, নাট্যকার, অভিনেতা ও উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন থেকে শুরু করে বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ভাষাবিজ্ঞানী ড. এনামুল হক, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক, অর্থনীতিবিদ সনৎ কুমার সাহা, প্রখ্যাত তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত বিচারপতি হাবিবুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করেছেন।

৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রণব কুমার পা-ে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টা ৫মিনিটে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে। এরপর একই স্থানে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হবে। পরে একই স্থান থেকে সাড়ে দশটায় বের হবে শোভাযাত্রা। এরপর ১১টায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে।

তবে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করতে শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি। এবিষয়ে সমতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা যেহেতু একটা আন্দোলনের মধ্যে আছি, সেহেতু আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করা জন্য সমিতির পক্ষ থেকে সকল শিক্ষককে আহ্বান জানিয়েছি। এরপরও কোনো শিক্ষক অংশগ্রহণ করলে, সেবিষয়ে আমরা সমিতির সভাতে আলোচনা করবো।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ