খরায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝরে পড়ছে আমের গুটি

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২২, ৫:৩০ অপরাহ্ণ


প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :


আমের জন্য যে জেলার পরিচিতি সবার কাছে তা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সে আমের রাজধানীতে অধিকাংশ গাছের মুকুল থেকে ইতোমধ্যে বেরিয়ে পড়েছে আমের গুটি। গাছে গাছে আমের গুটি দেখা গেলেও দীর্ঘ দেড় মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা।

ঝরে পড়া আমের গুটি ঠেকাতে গাছে পানি স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছে বিশেষজ্ঞরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে প্রায় ৮০ ভাগ গাছেই মুকুল আসে। জেলার ৫ উপজেলায় আমবাগান রয়েছে ৩৮ হাজার হেক্টর এবং গাছের সংখ্যা প্রায় ৫৮ লাখ।

জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হওয়ায় এই আমকে ঘিরেই এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের মুখে যেন হাসি নেই, যেন মলিন হয়ে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর, নয়াগোলা, কোর্ট এলাকা, শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটসহ বেশ কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, আমের গুটি বেড়েনো শুরু করেছে। কোনোটি আকারে ছোট, আবার কোনোটি একটু বড়।

খরার কারণে আমে গুটির বোঁটা নরম হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটি স্বাভাবিক কারণে বড় হচ্ছে না। এতে করে আমচাষীসহ বাগান মালিকদের ভাবিয়ে তুলেছে। কাইউম হোসেন নামে এক আম ব্যবসায়ী জানান, এবছর আমের গুটি মোটামুটি এসেছে, তবে চলতি সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত আর নেই।

আশায় বুক বেঁধেছিলাম হয়তো ফলন ভাল হবে। এ মৌসুমে পুরনো আম গাছগুলোতে মুকুল নেই বললেই চলে। মুকুলের পরিবর্তে অধিকাংশ গাছগুলোতে ডগায় কচি পাতা এসেছে। আমবাগান মালিক নুরুল ইসলাম জানান, এবছর আশানুরূপ মুকুল আসেনি। আর সময়মত গুটি আসলেও এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বেশ চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়েছে।

তবে, সামর্থ্য অনুযায়ী আমগাছে পানি দিয়ে স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় পানি দেয়া হচ্ছে। খরচের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, তদুপরি এ মুহূর্তে করার কিছুই নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এবার গাছে গাছে মুকুল আসার পাশাপাশি গুটিও সময়মত এসেছে। তবে চলতি সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এ জেলায় এখন পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি।

এ মুুহূর্তে বৃষ্টি হলে ফলন ভাল হবে, না হলে আম উৎপাদনে ব্যাহত হতে পারে। যদিও খরচ বেশি পড়বে, তারপরও আমচাষীদের গাছে পানি দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় বৃষ্টি নেই।

পানির জলাধার থেকে সেচের মাধ্যমে গাছ স্প্রে করলে আমের গুটি রক্ষা পাবে। খরার কারণে গাছগুলোতে পানিশূন্য হয়ে পড়ছে, সেহেতু গাছের গোড়া একটু গর্ত করে পানি দিলে গাছগুলোও পানি শূন্যতা থেকে রক্ষা পাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ