খরায় ঝরছে আমের গুটি, বিক্রি হচ্ছে ২ টাকা কেজি দরে

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২১, ১:১৬ অপরাহ্ণ

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট:


আমের মৌসুম আসলেই রাজশাহীর আমের স্বাদের কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। আর রাজশাহীর আম মূলত চারঘাট-বাঘার আমকে কেন্দ্র করেই রাজশাহীর আম। সেই চারঘাট-বাঘার আম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এখানকার চাষী ও বাগান মালিকরা। প্রচণ্ড খরায় গাছের গোড়ার মাটি শুকিয়ে আম ঝরে পড়ছে। সেই আম এখন বিক্রি করা হচ্ছে মাত্র ২ টাকা কেজি দরে। এভাবে প্রতিদিনই চারঘাট আমবাগানগুলোতে ঝরছে মণ মণ আমের গুটি। এতে হতাশ হয়ে পড়ছেন আমের সঙ্গে জড়িত চাষি ও মালিকরা। প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে দাবি চাষি ও কৃষকদের।
সরেজমিন চারঘাটে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি আমবাগানে ব্যাপকভাবে আমের গুটি ঝুলছে। আম ঝরে না পড়লে চলতি বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা চাষি, ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকেদের। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত পাচঁ মাস ধরে এ অঞ্চলে বৃষ্টি হয়নি। এতে করে আমের গুটি টিকিয়ে রাখা দায়। দ্রুত সময়ে মধ্যে বৃষ্টির দেখা না গেলে আমে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয়া আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালূহাটি গ্রামের আমচাষি ও বাগান মালিক বাহাদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি বছরে আম গাছে ব্যাপক আমের গুটি রয়েছে। তবে প্রচণ্ড খরার কারণে আম বাগানের মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে রয়েছে। এতে মাটিতে রস না থাকায় আমের গুটি ঝরে পড়ছে।
উপজেলার রায়পুর এলাকার আমচাষি সামশুল হক বলেন, বৈরী আবহাওয়া না হলে এ বছর যে পরিমাণ আমের গুটি এসেছে তাতে লাভবান হওয়ার কথা। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ আমের গুটি ঝরছে তাতে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কায় বেশি।
উপজেলার বুধিরহাট এলাকার বাগান মালিক আলতাফ হোসেন বলেন, বৃষ্টির দেখা না পেলে আমে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বালতি করে পানি দিয়ে তো গাছের গোড়ার মাটি ভিজানো সম্ভব নয়। তার পরেও চেষ্টা করছি আম গুটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য।
চারঘাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই এ অঞ্চলে বৃষ্টি নেই। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। তাপমাত্রাও দিন দিন বাড়ছে । অতিরিক্ত ক্ষরার কারণে কিছুটা আমের গুটি ঝরছে। বাগানের মাটি শুকিয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আম চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আমাদের পরামর্শ নিয়ে চাষিরা লাভবান হবেন।