খরা সহিষ্ণু শস্য আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ || সংবাদ সম্মেলনে বিএমডিএ চেয়ারম্যান

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ভূ-গর্ভস্থ পানির অবাধ ব্যবহার নিরুৎসাহিত এবং খরা সহিষ্ণু ধানসহ বিভিন্ন শস্য আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতোদিন সেচের জন্য ভূ-গর্ভস্থ পানির অবাধ উত্তোলন ও ব্যবহারের জন্য বিএমডিএ কে দায়ী করা হতো। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার বিএমডিএর সম্মেলন কক্ষে দেশের ‘প্রথম বরেন্দ্র এগ্রো-ইকো ইনোভেশন রিসার্চ প্লাটফর্ম কনফারেন্সে’র আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় বিএমডিএর সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএমডিএ পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বরেন্দ্র এলাকায় বেসরকারিভাবে অপরিকল্পিত গভীর নলকূপ ও অগভীর নলকূপ ব্যবহারের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ বাড়ছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞানী-গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পানির ব্যাপক সঙ্কট দেখা দেবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীগণ মনে করেন। সে কারণে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিএমডিএ) নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এবং ব্যাপক পানি গ্রহণকারী ফসলকে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কৃষিমন্ত্রী বোরো ধানের স্থলে কম সেচ গ্রহণকারী ফসল-গম, ভুট্টা, ডাল জাতীয় ফসলÑমসুর, মুগ, ছোলা, খেসারি, তৈল জাতীয় ফসলÑ সরিষা, বাদাম, তিল, তিসি, মসলা জাতীয় ফসলÑ কালোজিরা, ধনিয়া, এমনকি তেমন সেচ দিতে হয় না বার্লি জাতীয় শস্য এবং পুষ্টিসম্পন্ন ও উচ্চমূল্যের ফসল রোপণে বরেন্দ্র এলাকার কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, মাঠ পর্যায়ের তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায় বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি পুনঃরিচার্জ হয়।
অনিয়ন্ত্রিত সেচযন্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), গম গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প-িত ও গবেষকগণ খরা ও তাপ-সহিষ্ণু জাত আবিষ্কার করেছেন। যার ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাকবলিত এলাকার কৃষকরা অল্প সেচের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও উচ্চমূল্যের ফসল পেতে শুরু করেছেন।
এছাড়া বারি একই জমিতে বছরে চার প্রকার ফসলসহ স্বল্পমেয়াদি বিকল্প ফসলের জাত বিন্যাস করতে সক্ষম হয়েছে। এতে শস্যের বিন্যাসই শুধু নয়, একই জমিতে ফসলের বৈচিত্র্য এনে জমির উর্বরাশক্তিকে আরো সুদৃঢ়করণ করেছে। বারি, ব্রি, বিনা ইতোমধ্যেই বরেন্দ্র এলাকার জন্য খরা ও তাপ-সহিষ্ণু ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তৈল, মসলার জাত আবিষ্কার করেছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছে। বোরো ধানের পরিবর্তে কম পানি গ্রহণকারী ধান, পুষ্টিমানসম্পন্ন গম, ভুট্টা, ডাল বা তৈলজাতীয় ফসলের বীজ পাওয়া কৃষকের জন্য স্বপ্নের কিছু নয়।
তিনি বলেন, যেহেতু বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কোনো গবেষণা সেল নেই, কিন্তু অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য খরা ও তাপ-সহিষ্ণু এবং কম পানি গ্রহণকারী ফসল বারি, ব্রি, বিনা ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের গবেষক ও বৈজ্ঞানিকরা ইতোমধ্যেই আবিষ্কার করেছেন। সেই কারণে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান এবং তাদের অভিজ্ঞ বৈজ্ঞানিক ও গবেষকদের সমন্বয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দেশে এই প্রথম বরেন্দ্র এগ্রো-ইকো ইনোভেশন রিসার্চ প্লাটফর্ম কনফারেন্সের আয়োজন করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ