খাদ্যপণ্যের মিথ্যে বিজ্ঞাপন আইনের যথার্থ প্রয়োগ নিশ্চিত করা চাই

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২১, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খাদ্যপণ্যের যেসব বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় সেখানে মিথ্যা তথ্য দেয়া হলে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ৬ এপ্রিল দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি দৈনিক এ সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হেেছ।
তথ্যমতে ওই সতর্কিকরণ বিজ্ঞপ্তিতে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তার কোনোটাই প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনগুলোকে মানতে দেখা যায় না। টেলিভিশন, রেডিও বা পত্রপত্রিকায় বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন খাবারের নানা চটকদার বিজ্ঞাপন হরহামেশাই দেখা যায়।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের যথাযথ মনিটরিং না থাকায় এসব চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচারিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এসব বিজ্ঞাপনের প্রচার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বরোপ করেছেন তারা। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আইন আছে অথচ আইনের প্রয়োগ নেই, মনিটরিং নেই সেখানে বিশৃঙ্খলা বা স্বেচ্ছাচারিতই প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারের উচিত হবে একটি পণ্য বাজারে আসার আগে সেটার গুণগত মান পরীক্ষা করে সেটার ওপর নজরদারি বজায় রাখা। ওই পণ্যটি বিজ্ঞাপনে সঠিক তথ্য দিচ্ছে কিনা সেটা মিলিয়ে দেখা।
বাংলাদেশের খাদ্য আইন অনুযায়ী কোনো খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্য উপকরণের গুণ ও মান সম্পর্কে অসত্য কিংবা মিথ্যা-নির্ভর বর্ণনা দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রস্তুত, মুদ্রণ, প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না। মায়ের দুধের বিকল্প শিশু খাদ্য, শিশুর বাড়তি খাদ্য, রোগ নিরাময়কারী এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে কোনো বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না। ফুড অ্যাডিটিভ আছে এই রূপ খাবারের বিজ্ঞাপনে প্রাকৃতিক, তাজা, খাঁটি, আসল, বিশুদ্ধ, পিওর, ঐতিহ্যবাহী, ঘরে তৈরি, জেনুইন ইত্যাদি বিশেষণ যুক্ত করা যাবে না, যা প্রকৃত খাবার সম্পর্কে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে। ফলের রস না থাকলে ফলের পানীয় বলা যাবে না। সেক্ষেত্রে একে কৃত্রিম পানীয় বা কৃত্রিম সিরাপ হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ বা খাদ্য বিশেষজ্ঞ বা সমতুল্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পণ্যটি সুপারিশ করছে, এমন কিছুও বিজ্ঞাপনে থাকতে পারবে না।
এসব নির্দেশনা প্রথমবার অমান্য করলে অনূর্ধ্ব এক বছর বা অন্যূন ৬ মাসের কারাদ- এবং অনূর্ধ্ব দুই লাখ বা অন্যুন এক লাখ টাকা অর্থদ- কিংবা উভয়দ-ের বিধান আছে। পুনরায় অপরাধ করলে, এক বছরের কারাদ- বা চার লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ- দেয়ার কথা বলা আছে।
খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে আইনের কত বড় ব্যত্যয় ঘটছে তা সহজেই উপলব্ধি করা যায়। কিন্তু আইনের এই অবাধ্যতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাটা নেই বললেই চলে। ফলে আইনের সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন না। বরং মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে পণ্য কিনে তারা প্রতারিতই শুধু নয় স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেও পড়ছেন। বিষয়টিকে হাল্কাভাবে কিংবা পাস কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। আইনের প্রয়োগটা যথেষ্ট নিশ্চিত করতেই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ