খাদ্য দিবসের দাবি ।। খাদ্য অধিকার আইন আর কত দিন

আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০১৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

রোববার ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানের মত রাজশাহীতে দিবসটি পালিত হয়েছে। সঙ্গতকারণেই খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্যের মান নিশ্চিত করা এবং  খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার  খাদ্য আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে।
খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা এবং মৌলিক মানবাধিকার। মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে খাদ্যের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০তম সম্মেলনে প্রথমে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  সেই সময় থেকে প্রতিবছর ১৫০টিরও বেশি দেশে খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে।
খাদ্যের অধিকার বলতে পরিমাণ ও গুণগতদিক বিবেচনায় পর্যাপ্ত এবং সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য খাদ্য নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে গ্রহণের নিশ্চয়তাকে বুঝায়। পর্যাপ্ত খাদ্যের অধিকার ভোগ তখনই পরিপূর্ণতা পায় যখন নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সকলেই পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করতে পারে।
ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য এবং চরম দারিদ্র্য আজকের বিশ্বের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। বিশ্বের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দারিদ্র্যের জন্য মারা যাচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার মতে, বর্তমান বিশ্বের প্রায় একশত কোটি মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। এর মধ্যে এককভাবে উন্নয়নশীলের বিশ্বের ৯ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ ক্ষুধার্ত জীবনযাপন করছে। একদিকে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ খাদ্য অপচয় হচ্ছে। খাদ্যশস্য দিয়ে তৈরি জৈব জ্বালানি  উৎপাদনের জন্যও বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশের দারিদ্র নির্মূলে  সাফল্য এখন বিশ্ব জুড়ে বেশ আলোচিত একটি বিষয়। এই সাফল্য দেখতেই বিশ্বব্যংকের প্রেসিডেন্ট বিশ্ব খাদ্য দিবসের দিনে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। এই সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম সোমবার বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য দেশও সুফল পাবে বলে তিনি আশা করছেন। কিন্তু আমাদের এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, যারা এই পরামর্শ দিচ্ছে তাদের সহায়তার ওপর উন্নয়নকামী দেশে অগ্রগতি হয়েছে এম দৃষ্টান্ত মেলা ভার। এই তো সেদিন পদ্মা সেতুর কল্পিত দুনীর্তি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক কী ভয়ানক তেলেসমাতি করলো। খুব সহজেই একটি দেশের দারিদ্র অসহায়ত্বকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করাতে তারা সোটেও কুণ্ঠিত নয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিরদাঁড়া সটান রেখেই বিশ্ব ব্যাংকের ব্যাংকের মুখে পদাঘাত করেই নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ তার নিজ সক্ষমতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে (পারচেজিং পাওয়ার পেরিটি) বাংলাদেশে অতিদারিদ্র্যের হার যেখানে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় তা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকেও বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। নিঃসন্দেহে জাতিকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করছে। বাংলাদেশ দারিদ্র দূরীকরণে অনেকগুলো কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। তারমধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৫০ লাখ দুস্থকে ৫ মাস ধরে ১০ টাকা কেজিতে চাল দিচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি চ্যালেঞ্জিং কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির সাফল্যের মধ্যেই আমরা দরিদ্র মানিুষের খাদ্য অধিকারের বিষয়টিকে লক্ষ্য করছি। যা খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নে সরকারকে চূড়ান্ত ধাপে নিয়ে যাবে বলেই আমরা মনে করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ