খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আফগানিস্তানে ৯৭ শতাংশ মানুষ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে মুক্তির কী উপায়?

আপডেট: মে ১১, ২০২২, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তানে বর্তমানে ৯৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। খাদ্য সঙ্কট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশটির মানুষদের পক্ষে দিনে দুই বেলা জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৬ মে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা খামা প্রেস।
এটি খুবই উদ্বেগের বিষয় যে, দেশটি ক্রমশ ভয়াবহ সঙ্কটের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি দেশে জনগণের মধ্যে যে সংহতি-সম্মিলনের প্রয়োজন ছিল সে ব্যাপারে কোনোই উদ্যোগ নেয়া হয় নি। বরং সেখানে ধর্মের নামে রাষ্ট্র চালাতে গিয়ে দেশটির সরকার পৃথিবী থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা না ভেবে দেশের নারীদের শৃঙ্খল পরিয়ে কীভাবে গৃহবন্দি রাখবে সেই ফতোয়া জারি করতেই সময় কাটাচ্ছে। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতা গ্রহণের পর তালেবান সরকার ভিন্নমতের লোকদের গণহত্যার মধ্য দিয়েই শাসন কার্য শুরু করেছিল। যে নারীরা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন তারা মুহূর্তেই চাকরিচ্যুত হয়ে বেকার হয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরেই নতুন যুদ্ধের সূচনা করেছে তালেবান শাসক। জাতিসংঘ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সব শর্ত অগ্রাহ্য করে কট্টর ইসলামী শাসন প্রয়োগে কঠোরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটিতে এখন শুধু ক্ষুধা আর হাহাকারই নয়- ভীতি ও আতঙ্কও বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ক্ষুধা পরিস্থিতি এতই ভয়ঙ্করূপ নিয়েছে যে, সেখানে কন্যাশিশুদের অর্থের বিনিময়ে অভিভাবকদের বিক্রির খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। অনেক মা কিডনি বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের কোনো রকমে খাবার তুলে দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই টানাপোড়েনের শেষ হচ্ছে না। চলতি বছরের মার্চ মাসে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় কাবুলের ৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৯ জন বাসিন্দাকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছিল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো আর্থিক সহযোগিতা পায়নি আফগানিস্তানের নাগরিকরা। তবুও ওই সহযোগিতা দেয়া সম্ভব না হলে দেশটির আরো করুণ অবস্থায় পড়তো। কেননা আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামী নীতির কারণে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে জাতিসংঘ ব্যতীত অন্য সব দাতাগোষ্ঠী ও দেশসমূহ আফগানিস্তানে সহায়তা প্রদান বন্ধ রেখেছে।
শারিয়া আইনের প্রয়োগ যে বিশ্ব বাস্তবতায় সম্ভব নয়- সেটা আফগানিস্তান প্রমাণ দিচ্ছে। এর আগে সুদান দিয়েছে। খোদ ইসলামের পুণ্যভূমি সৌদি আরবে রাষ্ট্র ব্যবস্থার খোল-নলচে পাল্টানো হচ্ছে। কট্টর ব্যবস্থার মধ্যে টিকে থাকার চিস্তাটাই এ যুগে অবাস্তব-অলীক চিন্তা। আর অবাস্তব কিছু জোর করে প্রয়োগ করতে গেলে এর ভয়ঙ্কর নেতিবাচক প্রভাব দেশের জনগণের ওপর গিয়ে পড়ে। এক দেশ অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক-বন্ধুত্ব ব্যতিরেকে টিকে থাকা অসম্ভবই বটে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশটিকে রক্ষা করতে পারে তালেবান সরকারই। তাদের কট্টর নীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য দেখাতেই হবে। বিশ্বের পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হলে দেশটির টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেটা আপগানিস্তানের জনগণ ও সরকারকেই গভীরভাবে বুঝতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ