খানাখন্দে ভরা রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা সড়ক || ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

আপডেট: July 9, 2020, 12:03 am

চারঘাট প্রতিনিধি:


রাজশাহীর চারঘাট-বাঘার প্রধান সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তা জুড়ে অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় চারঘাট উপজেলার প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে কার্পেটিং উঠে যাওয়া এই খানাখন্দে ভরা সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছে পথচারী ও যানবাহনের চালকরা।

 

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদা, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, চারঘাট উপজেলা সদর, চারঘাট পৌরসভা, চারঘাট মডেল থানা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসসহ ১ টি সরকারি কলেজ, ১ টি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ (নির্মাণাধীন), ১টি সরকারি হাই স্কুলসহ বেসরকারি স্কুল ও কলেজে আসা-যাওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে এই সড়ক। প্রতিদিন সরকারি ও বেসরকারি কাজে কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকেন। এছাড়াও রাজশাহী শহর ও শহরে অবস্থিত বিভিন্ন ইউনির্ভাসিটি ও কলেজে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই সড়ক। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় সড়কের গর্তগুলো বৃষ্টির পানি জমে কাদায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাড়ি এসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কিছু কিছু ভাঙা স্থানে ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে যায়। তবে তাতে দুর্ভোগ না কমে বরং আরো বৃদ্ধি পায়।

 

উল্লেখ্য যে, চারঘাট-বাঘার এই সড়কটি রাজশাহী হইতে ঈশ^রদী বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধাজ্ঞা সংবলিত সাইন বোর্ড থাকলেও কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই সড়ক দিয়ে পাথর, বালুসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন ভারি যানবাহন চলাচল করে। ভারি বর্ষণে সড়কের সংস্কার না করায় ও অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচলে অধিকাংশ রাস্তা দেবে যাওয়াসহ খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার ( ৭জুলাই) সকালে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি উপজেলার গ্রাম শিবপুরে প্রায় কয়েকশ মিটার রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া হলিদাগাছির দিঘলকান্দি গ্রাম রোড, তালতলা, ট্রাফিক মোড় রোড থেকে সারদা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথের সামনে, চারঘাট সিনেমা হল মোড় থেকে মিরগঞ্জ মোড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কটির শতাধিক স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এছাড়াও সড়কটির কাকঁড়ামারী, পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাকা সড়কের উপর ইটের হেরিংবোন তৈরি করা হয়েছে।
পিরোজপুর এলাকার অটো চালক রানা বলেন, এই সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলে গর্তগুলোতে পানি জমে থাকে। বোঝাই যায় না কোথায় গর্ত আছে, গাড়ির চাকা গেলেই উল্টে যায়। তিনি বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করলে চলাচল আরো কষ্টকর হয়ে যাবে।
পথচারী সুজন বলেন, এটাতো সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ। প্রয়োজন তাগিদে এভাবেই চলাচল করতে হয়। তবে প্রসূতি ও অসুস্থ রোগিদের ক্ষেত্রে চরম অসুবিধায় পড়তে হয়।
এ ব্যাপারে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা বলেন, সড়কটির সকল ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় মেইনটেন্সের কাজ চলছে। আধুনিক ও টেকসই চার লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সড়কটি নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ