খামার ব্যবস্থাপককে লাঞ্ছিতের পর এবার আ’লীগ নেতার আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া!

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৭, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাটে আঞ্চলিক দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারে এবার আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলীর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ আগস্ট খামার ব্যবস্থাপককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পর গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র মহড়ার এ ঘটনা ঘটে। এসময় খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের এক নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এবং খামারের ঠিকাদার রজব আলী গতকাল তার লাইসেন্সকৃত শটগান নিয়ে একটি প্রাইভেট কারযোগে (রাজমেট্রো ক-১১-০০৮৪) খামারে প্রবেশ করেন। এসময় তার সঙ্গে আরো চারজন সহযোগী ছিলেন। খামারে প্রবেশের পর তিনি ব্যবস্থাপক তোফিজুল ইসলামকে খুঁজতে থাকেন। এসময় খামার ব্যবস্থাপক তার দফতরের বাইরে ছিলেন। শটগান হাতে নিয়ে ব্যবস্থাপককে দেখে নেয়ার হুমকি দিতে থাকেন আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে খামারের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। এরপর সেখানে উপস্থিত হন গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সিসহ পুলিশ সদস্যরা। এসময় ওসি আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তাছাড়া রজব আলীর সঙ্গে থাকা তার চার সহযোগীকে তল্লাশি করা হয়।
এসময় রজব আলী ওসি হিপজুর আলীর কাছে নমনীয় হন এবং ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তাছাড়া রজব আলী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার দলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করেন। একপর্যায়ে শীর্ষ নেতারা ওসি হিপজুর আলী মুন্সিকে বিষয়টি মীমাংসা করে দিতে বলেন। এসময় আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী ভবিষৎতে আর এ ধরনের কাজ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর রজব আলী ও তার চার সহযোগী প্রাইভেট কারযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ ও রজব আলীসহ চার ঠিকাদার খামার ব্যবস্থাপক তোফিজুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করেন। এসময় খামার ব্যবস্থাপক তোফিজুল ইসলাম আওয়ামী লীগ নেতা ওই চার ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যস্থতায় অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ, রজব আলী, হাজি শহীদ এবং আবুল কাশেম ওরফে কাসু নামের চার ঠিকাদার খামারে গরুর খাবার সরবরাহ করেন। গত মে মাসে আহ্বান করা দরপত্রে তারা গত জুলাই থেকে খাবার সরবরাহের কার্যাদেশ পান। কিন্তু নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছিলেন না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। এ নিয়ে টানা তিনবার তাদের লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়।
কিন্তু এরপরেও নিয়মিত খাবার সরবরাহ না করায় কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই কার্যাদেশ বাতিল হলে খামারে জামানত রাখা ঠিকাদারদের প্রায় ৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চলে যাবে। আর একারণেই খামার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে ঠিকাদারদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
খামার ব্যবস্থাপক তোফিজুল ইসলাম বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়ার কারণে খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে আমাকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। একারণে খামারে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ওসি হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলীর আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্সকৃত। তবে এটি প্রকাশ্যে দেখানো ঠিক না। এব্যাপারে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি এ ধরনের কাজ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী বলেন, ২০১৩ সালের আজকের দিনে (২৮ আগস্ট) আমার ছোট ভাই শাহেন শাহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। মানসিকভাকে বিপর্যস্ত ছিলাম। আর একারণে লাইসেন্সকৃত শটগানটি সাথে নিয়ে খামারে গিয়েছিলাম। ভয় দেখানো বা অন্য কোন কারণে আমি আগ্নেয়াস্ত্রটি সাথে করে নিয়ে যাই নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ