খামার ব্যবস্থাপককে লাঞ্ছিত করলেন ঠিকাদার নিয়মিত খাবার সরবরাহ না করার অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাটে আঞ্চলিক দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারের ব্যবস্থাপককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে খামার ব্যবস্থাপকের দপ্তরেই এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন খামার ব্যবস্থাপক তোফিজুল ইসলাম। তবে ওই কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ। তিনি দাবি করেছেন, লাঞ্ছিত নয়, শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে।
তবে খামার ব্যবস্থাপক তোফিজুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। আবদুর রশিদ তাকে মারপিট শুরু করলে অন্য নেতারা তাকে আটকিয়েছেন। তা না হলে তাকে আরও বেশি মারধর করা হতো। আবদুর রশিদের হুমকিতে তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলেও জানান তোফিজুল ইসলাম।
তিনি জানান, খামারের গরুর খাবার সরবরাহ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ। গত মে মাসে আহ্বান করা দরপত্রে তিনি গত জুলাই থেকে খাবার সরবরাহের কার্যাদেশ পান। কিন্তু তিনি নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছিলেন না। এ নিয়ে টানা তিনবার তাকে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়।
কিন্তু এরপরেও নিয়মিত খাবার সরবরাহ না করায় তার কার্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই কার্যাদেশ বাতিল হলে খামারে জামানত রাখা আবদুর রশিদের প্রায় ৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চলে যাবে। আবদুর রশিদ তার কার্যাদেশ বাতিলের খবর জানতে পেরে গত কয়েকদিন থেকে ফোনে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে দাবি খামার ব্যবস্থাপকের।
তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে আবদুর রশিদসহ আরও কয়েকজন নেতা তার দপ্তরে যান। এ সময় আবদুর রশিদ তাকে বলেন, ‘জামানতের টাকা কি আপনার বাপের? আপনাকে রাস্তায় বেঁধে টাকা আদায় করবো।’ তোফিজুল ইসলাম ওই আওয়ামী লীগ নেতার এ ধরনের কথার প্রতিবাদ করেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুর রশিদ তাকে মারধর শুরু করেন।
তোফিজুল ইসলাম বলেছেন, আবদুর রশিদের এ ধরনের আচরণের বিষয়টি নিয়ে তিনি তার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা তাকে খাবার সরবরাহের কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সেটাই করবেন। এরপর নতুন করে আবার দরপত্র আহ্বান করা হবে।
খামারে কী হয়েছিল, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ বলেন, ‘কিছুই হয়নি। শুধু একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে।’ নিয়মিত গো-খাদ্য সরবরাহ করা হয় না, এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন আবদুর রশিদ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ