খালেদাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ, নইলে পরোয়ানা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি করার অভিযোগে এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
মহানগর হাকিম নূর নবী রোববার এই আদেশ দিয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়া ৫ অক্টোবরের মধ্যে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।
মামলার বাদি আওয়ামী লীগ সমর্থক সংগঠন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন, তার শুনানি শেষে বিচারক আত্মসমর্পণের এই আদেশ দিলেন।
২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার হাকিম আদালতে এবি সিদ্দিকীর করা এ মামলার আর্জিতে বলা হয়, স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে খালেদা জিয়া দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার ‘মানহানি ঘটিয়েছেন’।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার প্রয়াত স্বামী এক সময়ের সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকেও রাখা হয় আসামির তালিকায়।
ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম সেদিন বাদীর আর্জি শুনে তেজগাঁও থানা পুলিশকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি যে প্রতিবেদন দেন তাতে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।
সেখানে বলা হয়, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রী বানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
“কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলণ্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”
বাংলাদেশের আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
গত ২২ মার্চ বিচারক প্রতিবেদনটি আমলে নেন এবং পরে ২০ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। এরপরও খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন এ বি সিদ্দিকী।
খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, আদালতে এ মামলার শুনানিতে তাদের কেউ ছিলেন না। তবে আদেশের বিষয়টি তারা শুনেছেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ