খালেদার আবেদন খারিজের আদেশ আপিলে বহাল

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৩২ সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়া হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।
এ রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া রিভিউ করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম চলবে। মামলা চলতে আগেও কোনো বাধা ছিল না, এখনও নেই। যেহেতু আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার এ সংক্রান্ত একটি আবেদন পেন্ডিং ছিল তাই কার্যক্রম চলেনি।”
সাক্ষ্যগ্রহণে শপথ আইন ‘না মানার’ কারণ দেখিয়ে ৩২ জনের সাক্ষ্য ফের নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের রিভিশন আবেদন গত ১২ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ খালেদার আবেদন খারিজ করে দেয়।
তবে ভবিষ্যতে যে কোনো মামলায় সাক্ষীরা যেন আইন অনুসারে শপথ নেয় সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য আইন সচিব ও রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেয়া হয়।
হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়ে রোববার তা আপিল বিভাগও খারিজ করে দেয়। গত ৮ ডিসেম্বর হাই কোর্টে এই আবেদনটি করেন খালেদার আইনজীবীরা।
এর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারিক আদালত। একই বছরের ১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া আবেদনটি করেছিলেন। এ আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রমরে ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল।
এ মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীনরাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন সাক্ষী। এটি এবং জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে আত্মপক্ষ সমর্থন পর্যায়ে রয়েছে।
জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত।- বিডিনিউজ