খালেদার নাইকো মামলা স্থগিত

আপডেট: মার্চ ৮, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।
খালেদা জিয়ার করা এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।
আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। পরে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “হাই কোর্ট রুল দিয়েছে, আর মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে।”
খুরশীদ আলম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ মামলায় মওদুদ আহমেদের বিষয়ে রুলের শুনানি হচ্ছে। সেই শুনানি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
“তবে আমরা আদালতে বলেছি, দুদকের মামলা শুনানির জন্য এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত রয়েছে। এই আদালতের সেই এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার হলেও আদালত আমাদের আবেদন শোনেননি। এই যুক্তিতে আমরা আগামীকাল আপিল বিভাগে যাব।”
কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।
২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। যেখানে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও দলটির নেতা মওদুদ আহমেদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, বাপেক্স’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ রয়েছেন।
এই মামলায় গত ১ ডিসেম্বর হাই কোর্টে রুল ও স্থগিতাদেশ পেয়েছিলেন মওদুদ আহমেদ। মওদুদের বিচার কার্যক্রমের ওপর পাওয়া সেই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে গেলেও বহাল থাকে হাই কোর্টের আদেশই। তবে রুল শুনানিতে একটি বেঞ্চ বিব্রতবোধ করলে পরে অন্য একটি বেঞ্চে তা পাঠানো হয়। সেখানেই রুলটি বিচারাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সালিশি আদালতে পেট্রোবাংলা, বাপেক্সের সঙ্গে নাইকোর চুক্তি ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিরোধের মামলা চলছে। গত বছরের ১৯ জুলাই এক আদেশে ওই সালিশি আদালত এক আদেশে বাপেক্স-পেট্রেবাংলাকে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মওদুদের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলে।
সালিশি আদালতে একটি মামলা চলমান থাকায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করেন মওদুদ। তবে বিচারিক আদালত গত বছরের ১৬ অগাস্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর তিনি হাই কোর্টে যান।
সেখান মওদুদ স্থগিতাদেশ পেলেও তার দলীয় প্রধান খালেদার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলতে বাধা নেই বলে সেসময় জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা।
মওদুদের মত সালিশি আদালতের একই যুক্তি দেখিয়ে নিম্ন আদালত ঘুরে হাই কোর্টে এসে স্থগিতাদেশ পেলেন খালেদা জিয়াও। হাই কোর্ট এ বিষয়ে রুলও জারি করে, যার জবাব দিতে বিবাদীদের ৪ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।- বিডিনিউজ