খালেদা খাতুন রেখা আপনাকে স্যালুট

আপডেট: জুলাই ১২, ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক নারীর গোসলের জন্য যখন কাউকে পাওয়া যাচ্ছিলো না তখন তার গোসলের কাজে এগিয়ে গেলেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালেদা খাতুন রেখা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় জেলার কাউখালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজিয়ালখান গ্রামে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
কাউখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার যতই প্রশংসা করা যাক না কেন তা শেষ করা যাবে না। মানুষের মধ্যেকার মানুষটা জাগ্রত না হলে বড় মাপের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হওয়া যায় না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের সরকারের একজন উচ্চ দায়িত্বশীল কমকর্তা হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য কী হতে পারে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। সরকারি প্রটৌকলই শেষ কথা হয় নাÑ যখন প্রশ্ন মানবিকতার হয়। সেটা তাৎক্ষণিকভাবেই দায়িত্ব নিতে হয়। ইউএনও সেই কাজটিই করেছেন যেটি তার ওই মুহূর্তে করণীয় ছিল। তাঁর ওই কাজ করার মধ্য দিয়ে অন্যকে উদ্বুদ্ধ করা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ অন্যের মধ্যে সঞ্চারিত করা এবং সাহসে অনুপ্রাণিত করে নিশ্চয়ই।
ঘটনা বিচ্ছিন্ন করে দেখার চেষ্টা হতে পারে কিন্তু এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, পরিবর্তনটা হচ্ছে। আমরা সমাজের পরতে পরতে যত অন্ধকারই দেখি না কেনÑ আলোর ঝিলিক তা সামান্য হলেওÑ সেটা প্রমাণ করে যে আলোটা আসছে। আমলাদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার শেষ নেই। এর বাস্তবতাও আছেÑ কিন্তু সেটা ঢালাওভাবে বলা যায় না। আমরা আমলাতন্ত্রকে প্রশ্রয় দিতে চাইনা কিন্তু আমলাদের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করতে পারি না। কাউখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার মত সরকারের তরুণ কর্মকর্তারা এমন দৃষ্টান্তই স্থাপন করছেন যা দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা মানসিক পরিবর্তনের ধারা বেগবান করছে। এই দায়বদ্ধতার পরিসরটুকু ক্রমেই বাড়াতে পারলে আলোটা পূর্ণরূপে আসবেই। কাউখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার খালেদা খাতুন রেখা যে গল্পটি তাঁর কর্তব্যকাজের মধ্য দিয়ে লিখে রাখলেন তা অন্যের জন্য দৃষ্টান্ত। এই ধরনের গল্পগুলোই মানবতার কথা বলবে, নীতি-নৈতিকতার কথা বলবে, ভালবাসা-সম্পর্কের কথা বলবে, উন্নত সভ্যতার কথা বলবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কথা বলবে। এমন মূল্যবোধ সৃষ্টি হলে বাংলাদেশকে কে রুখবে।
খালেদা খাতুন রেখা আপনাবে স্যালুট।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ