খাড়ির পানিই এখন কৃষকদের অবলম্বন

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


একটি খাড়ি এখন অনেক কৃষকের অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খাড়ির পানি পাট জাগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার অনেকাংশে সেচ সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষকরা আনন্দিত। তাঁরা এই খাড়ির দুই পাড় পাকা করে বেঁধে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পবার বারনই নদীর পানি পাকুড়িয়া সুইচ গট দিয়ে এই খাড়িতে আসছে। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খাড়িতে প্রায় চল্লিশটি সেলো মেশিনের সাহায্যে আমন ধানের জাবাড় (জমিতে ধান রোপণের পূর্বের প্রস্তুতিমূলক কাজ) ও সেচের কাজে পানি নিচ্ছেন কৃষকরা। এছাড়াও খাড়ির পানিতে কৃষকরা পাট জাগ দিচ্ছেন। আশেপাশে ৫শো কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ডিপ না থাকায় কৃষকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাড়ির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ভূগরইল মোজাতে অবস্থিত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ভোলাবাড়ী খাড়ি।

বায়া এলাকার কৃষক গোলাম রাব্বানী সোনার দেশকে বলেছেন, তিন বিঘা জমির পাট এই খাড়িতে জাগ দিয়েছি এবং ১৫ বিঘা আমন ধানের জন্য পানি সেচ দিচ্ছি। খাড়িটি জমির কাছাকাছি হওয়ায় পাট জাগ দিতে অনেক সুবিধা হয়। খাড়িটির দুই পাড় পাকা করার দাবি জানান তিনি।

ভোলাবাড়ী এলাকার কৃষক আয়ুব আলী জানান, নওহাটা পৌরসভার ঝুসকাই এলাকার সুইচ গেটটি অনেক পুরনো। সেটা সংস্কার করা প্রয়োজন। চৈত্র মাসে খাড়িতে পানি থাকে না, সেই সময় সুইচগেটও বন্ধ থাকে। এটি সংস্কার করলে চৈত্র মাসে পানি পাওয়া যাবে। ফলে পানির অভাবে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না।

ভূগরইল এলাকার কৃষক মাসুম রানা জানান, আগে খাড়ি খননের অভাবে পানি পাওয়া যেত না। আমাদের নিদারুণ কষ্টে কথা চিন্তা করে, স্থানীয় কাউন্সিলর হাবিব ভাইয়ের উদ্যোগে পৌর মেয়র মহোদয় দুই মাস আগে এই খাড়িটি সংস্কার করে দেন। তাই এখন এই বৈশ্বিক মহামারির সময় খাড়ি থেকে পানি পাচ্ছি।

তিনি আরো জানান, এইবার দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম, এই খাড়িতে সেই পাট জাগ দিয়েছি। এখন আমন ধান লাগাবো, খাড়ি থেকে পানি নিয়ে জাবাড় করছি। খাড়িটি মেয়র মহোদয় সংস্কার না করলে, পাট জাগ দিতে পারতাম না। এছাড়াও আমন ধান সঠিক সময় লাগানো সম্ভব হতো না, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হতো।

ভোলাবাড়ি কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ছোট বেলায় বাপ-দাদাদের দেখেছি খড়ার সময় এই খাড়ির পানি দিয়ে ফসল চাষ-বাছ করতে। এছাড়াও বর্ষার সময় জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে এই খাড়ি দিয়ে পানি অপসারণ করতেন। কিন্তু বিগত পাঁচ বছর থেকে খাড়িটি খননের অভাবে পানি ব্যবহার করতে পারিনি। ময়লা আবর্জনার পড়ে খাড়িটি প্রায় ভরাট হয়ে যাচ্ছিলো।

তিনি আরো জানান, খাড়িটি সংস্কারের দাবিতে এই অঞ্চলের কৃষকরা স্থানীয় কাউন্সিলর হাবিবের সহযোগিতায় নওহাটা পৌর মেয়র হাফিজকে জানায়। দুই মাস আগে খাড়িটি পুণরায় খনন করে সংস্কার করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা পুণরায় পানি দিয়ে ফসল চাষ-বাছ করার সুযোগ পাচ্ছে। দেড় বিঘা জমিতে পাট কেটে খাড়িতে জাগ দিয়েছি। সেই জমিতে আবার আমন ধান আবাদ করবো।

স্থানীয় কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, আমার বাপ-চাচারা কৃষি কাজের সাথে জড়িত। আমিও এই বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। তাই আমি কৃষকদের কষ্টের কথা চিন্তা করে পৌরসভার বাজেট অধিবেশন এই খাড়িটি সংস্কারের কথা উপস্থাপন করি। ফলে পৌর মেয়র মহোদয়ের সহযোগিতায় এই খাড়িটি সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ করেছি। আষাঢ় মাসে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায়, তাঁরা এই বৈশ্বিক মারামারি সময় খাড়ির পানি ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন।

কৃষকদের দাবি পূরণের বিষয়ে তিনি জানান, খাড়িটির দ্বিমুখি সুবিধা রয়েছে- কৃষি কাজে খরার সময় জমিতে পানি ব্যবহার করা যায় এবং বর্ষার সময় জমি থেকে পানি অপসারণ করা যায়। তাই এই অঞ্চলের কৃষকরা খাড়িটির পাড় পাকা করার দাবি জানিয়েছেন। আমি মেয়র মহোদয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলেছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাড়িটি পাড় পাকাকরণের কাজ শুরু হবে।

খাড়িটি সংস্কারের বিষয়ে নওহাটা পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবের মাধ্যমে কৃষকদের সমস্যার কথা জানতে পারি। খাড়িটি পরিদর্শন করি এবং কৃষকদের কষ্টের কথা চিন্তা করে এক মাসের মধ্যে সংস্কারের আশ্বাস প্রদান করি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন থেকে খাঁটি সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। নওহাটা পৌরসভার উদ্যোগে খাড়িটি পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের কৃষকরা কৃষিকাজে খাড়ির পানি ব্যবহার করতে পারছেন। যেহেতু এই বিলের কৃষি কাজে পানি ব্যবহরের অন্য কোন উৎস নাই। তাই খাড়িটি পুনরায় খনন করে দুই পাড় পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পৌরসভার বাজেটে এই প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে- দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ