খিলক্ষেতে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত

আপডেট: মে ১৮, ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রাজধানীর খিলক্ষেতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, মাদক ও হত্যা মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার (১৭ মে) দিবগত রাত আড়াইটার দিকে খিলক্ষেত ৩০০ ফিট এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের নাম রাসেল ও এনামুল। তাদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের একটি দল কাওলা হয়ে পূর্বাচলগামী ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে এবং অপর দলটি পূর্বগামী ফ্লাইওভারের মাঝে অবস্থান নিয়ে তল্লাশি করছিল। রাত অনুমানিক সোয়া ২টার দিকে কাওলা থেকে বিশ্ব রোডের দিকে একটা সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশা কয়েকজন লোক নিয়ে যাচ্ছিল। চেকপোস্টে অটোরিকশাটিকে থামতে বলা হলে তারা ৩০০ ফিট ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে পূর্বাচলের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। ডিবি পুলিশের দলটি ব্রিজের মাঝে থাকা দ্বিতীয় দলকে ওয়ারলেস দ্বারা সতর্ক করলে তারা তাদের মাইক্রোবাসকে আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে দেয় এবং প্রথম দলটি সিএনজি অটোরিকশাকে ধাওয়া করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ব্যারিকেডে দু’জন সন্ত্রাসী অটোরিকশা থেকে নেমে দৌড়ে সামনে যেতে থাকে এবং পুলিশের মাইক্রোবাস আড়াআড়ি দেখে সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ডিবি পুলিশের একটি মাইক্রোবাসের বাম দিকের কাঁচ ভেঙে যায়। নিজেদের জীবন, সরকারি অস্ত্র ও অন্যান্য মালামাল রক্ষার্থে আক্রান্ত মাইক্রোবাসটি থেকে ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সন্ত্রাসী এবং পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গোলাগুলি হয়। একটা পর্যায়ে গুলি থেমে গেলে সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশাটিকে (নাম্বার ঢাকা থ ১১- ৭৯৪৫) ফ্লাইওভারের সঙ্গে ধাক্কা লাগা অবস্থায় পাওয়া যায়। এটির ড্রাইভারের সিট এবং পেছনের সিট থেকে দু’জন সন্ত্রাসীকে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করে ডিবি। কিছুটা দূরে আরও দুই জন সন্ত্রাসীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লাইওভারের ওপরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের দুজনকে দ্রুত খিলক্ষেত থানা পুলিশের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, আগ্নেয়াস্ত্র, একটি পুরাতন কিন্তু ধারালো ছুরি, মোবাইল, গামছা ও মলম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার জীবিত দুজন হলো সিএনজি অটোরিকশার ড্রাইভার নয়ন ও ইয়ামিন।
মশিউর রহমান জানান, তারা সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে যাত্রী তুলে তাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিতো। কেউ টাকা পয়সা না দিলে তারা তাদের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সবকিছু কেড়ে নিতো এবং নির্জন কোনও স্থানে লাশ ফেলে রাখতো।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন