খুলল বইমেলার দ্বার || বেশি বেশি পড়ার আহ্বান

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করে সবাইকে বেশি বেশি বই পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তরুণ-তরুণীদের ‘বিপথগামী’ হওয়া ঠেকাতে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা যে বিপথে চলে যায়, তাদের বিপথ থেকে উদ্ধার করা যায় এই সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে। লেখাপড়া, সংস্কৃতি চর্চা যত বেশি হবে তত বেশি তারা ভালো পথে চলে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সবাইকে বেশি বেশি বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বই পড়ার ভেতর যে আনন্দ এবং বই পড়লে অনেক কিছু ভুলে থাকা যায়। আবার অনেক জ্ঞান অর্জন করা যায়।”
‘অমর একশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন বিদেশি সাহিত্যিক ও গবেষক বক্তব্য দেন। এদের মধ্যে চিনা ভাষায় প্রকাশিত ৩৩ খ-ের রবীন্দ্র রচনাবলীর সম্পাদক ডং ইউ চেন, অস্ট্রিয়ার কবি মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর সাহিত্যিক লুস মারিয়া লোপেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক-প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক চিন্ময় গুহ ছিলেন।
শেখ হাসিনা জানান, তার বাড়িতে আগে থেকেই বই পড়ার চর্চা ছিল এবং এখনও তা আছে।
শিশুকাল থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চর্চাটা ছোটবেলা থেকে হলেই অভ্যাসে পরিণত হয়। আমি সেজন্য আহ্বান জানাব আমাদের ছেলে-মেয়েদের, বই পড়লে বিশ্বকে জানা যাবে।
“আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের এই আহ্বানই জানাব যে, সকলে বই পড়বেন।” এ প্রসঙ্গে ডিজিটাল বইয়ের কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
“তবে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, হাতে বই নিয়ে পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে পড়ার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। কাজেই বই আরও ছাপা হোক, আরও সুন্দর হোক- সেটাই আমি চাই।”
একুশে বইমেলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বইপ্রেমী সবাই এই বইমেলা শুরুর অপেক্ষায় থাকেন।
“কাজেই এই বইমেলার মধ্য দিয়ে একদিকে যারা সাহিত্যের চর্চা করেন তাদের বই প্রকাশ, আবার প্রকাশকরা বই প্রকাশ করেন। ছোট শিশু থেকে সকলেই বই কেনেন। আবার এটা বিরাট মিলনমেলায় পরিণত হয়।” কিন্তু সরকার প্রধান হিসেবে কাজের চাপ ও নিরাপত্তার কারণে বইমেলায় না ঘুরতে পারার দুঃখের কথাও বলেন তিনি।
“আমার একটাই দুঃখ- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার ফলে এখন আর আগের মতো এই বইমেলায় আসতে পারি না। হাত-পা বাঁধা। কী করব? এটাই হচ্ছে সব থেকে দুঃখের।”
এুকশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাঙালি রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে গেছে। কাজেই আজকের এই দিবসটা শুধু আমাদের দিবস না। আজকে সমগ্র পৃথিবীতে যারাই মাতৃভাষা ভালোবাসে তাদেরই জন্য এই দিবসটি আজকে।”
পাকিস্তানি শাসকদের মাতৃভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা এবং বাঙালি ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
“আমাদের যা কিছু অর্জন করতে হয়েছে রক্তের মধ্য দিয়েই অর্জন করতে হয়েছে। বিনা রক্ততে কিছুই আমরা পাইনি,” বলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে আবার আমরা সেই বিজয়ের পতাকা সমুন্নত রেখে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসন তৈরি করে নিয়েছি। আর্থ-সামাজিকভাবে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
“অপরদিকে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার দিক থেকেও আজ আমরা পিছিয়ে নেই। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”
রামেন্দু মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দুটি বই দেওয়া হয়। মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ সিন্ধু’র ইংরেজি অনুবাদ ‘ওশান অব সরো’ এবং জার্মান থেকে প্রকাশিত ‘হানড্রেড পয়েমস ফ্রম বাংলাদেশ’।
মেলা উদ্বোধনের পর কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।- বিডিনিউজ