খুলে দেয়া হচ্ছে পলিটেকনিকের ছাত্রাবাস সংস্কার শুরু, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


দীর্ঘ সাত বছর পর খুলতে যাচ্ছে রাজশাহী পলিটেকনিট ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসগুলো। চলছে সংস্কার কাজ। আশা করা হচ্ছে, সংস্কার কাজ শেষে আগামি জুনের মধ্যেই ছাত্রাবাসগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। ফলে সংস্কার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল দফতর। ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার সংবাদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ঊচ্ছ্বসিত। তারা বলছেন, আবাসিক সমস্যার কারণে তারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে লেখাপড়া করছেন। বন্ধ ছাত্রাবাসগুলো খুলে দেয়া হলে কিছুটা হলেও আবাসন সঙ্কটের সমাধান হবে বলে মনে করছেন তারা।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী পলিটেকনিট ইনস্টিটিউটের দুই ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রী নিবাস। ওইদিন ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ছাত্রমৈত্রী পলিটেকনিক শাখার সহসভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানি নিহত হন।
এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই দিনই কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য পলিটেকনিক ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে। সেদিনই ছাত্রাবাস ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রায় সাড়ে চার মাস পর ২০১০ সালের ২৬ মে ক্যাম্পাস খুললেও বন্ধ করে দেয়া হয় ছাত্রাবাসগুলো। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়েন আবাসন সঙ্কটে। আর শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতেই আবার ছাত্রাবাস খোলার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় কারণে ছাত্রাবাসগুলো শিক্ষার্থীদের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কার না করলে বাসযোগ্য করা যাবে না। মাসখানেক হলো সংস্কার কাজ সীমিত পর্যায়ে শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার কাজে আরো গতি আসবে। সংস্কার শেষ হলে তারা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রাবাস খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.) ছাত্রাবাস ও শহিদ মনোয়ার ছাত্রাবাসে আসন রয়েছে ২৪০। আর মেয়েদের জন্য একমাত্র আক্তারুন্নেসা ছাত্রীনিবাসে আসন ৬০। বর্তমানে ৮টি টেকনোলজিতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। আর প্রতিষ্ঠানটির জন্ম ১৯৭৩ সালে।
গত বৃহস্পতিবার শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.) ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখা গেছে, ভুতুড়ে পরিবেশ। চারদিকে সুনসান নিরবতা। যাতায়াতের রাস্তাগুলোও ঝোপঝাড়ে ঢাকা। দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছাত্রাবাসের বারান্দার গ্রিল বেয়ে উঠেছে লতাপাতা। নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালা। ব্যবহার না হওয়ায় বিকল হয়েছে ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। আসবাবপত্র খেয়ে ফেলেছে ঘুনে। কিছু কিছু চুরিও হয়েছে।
সেখানে পাওয়া গেলো ইনস্টিটিউটের পিয়ন অসিত কুমারকে। তিনি জানালেন, তাকে ছাত্রাবাস পাহারার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগে বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে গেছে। ঘটনা টের পেয়ে পাহারা বসিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি ছাড়াও আবদুল হান্নান নামের আরেক পিয়নকে পাহারার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ছাত্রাবাসটিতে বসবাসের পরিবেশ নেই বলে জানান অসিত কুমার। একই অবস্থা অন্য দুই ছাত্রাবাসের। এরই মধ্যে শহিদ মনোয়ার ছাত্রাবাসে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজির সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আবদুল মান্নান। তার বাড়ি জেলার মোহনপুরে। তিনি থাকেন নগরীর নওদাপাড়া এলাকার একটি ছাত্রাবাসে। আড়াই হাজার টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে থাকেন কয়েকজন। গাদাগাদি করে থাকতে হয়। ছাত্রাবাস চালু থাকলে এ দুর্ভোগ থাকতো না। তবে সংস্কার কাজ শুরু হবার কারণে তিনি উচ্ছ্বসিত।
শহিদ মনোয়ার ছাত্রাবাসের সামনের শহীদ মিনারের বেদিতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন পাওয়ার টেকনোলজির অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ও তৌহিদ বিল্লাহ। তারা বললেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ছাত্রাবাসগুলো এখন প্রায় পরিত্যক্ত। তবে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে ছাত্রাবাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা বসবাস করতে পারবেন। একারণে আমরা আনন্দিত। এর ফলে কিছুটা হলেও আবাসন সঙ্কটের সমাধান হবে।
জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলী আকবর খান বলেন, ছাত্রাবাসগুলো দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ফ্যান ও বৈদ্যুতিক লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কক্ষের জানালা-দরজা ও গ্রিল নেই। আসবাবপত্রগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তারা বারবার মেরামত করে চালুর ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখছেন।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর তিনটি ছাত্রাবাস বসবাসের উপযোগী করতে সংস্কারের জন্য ২২ লাখ টাকার এস্টিমেট দিয়েছে। তবে সম্প্রতি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বাকি টাকা অচিরেই ছাড় করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হয়ত আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বরাদ্দ ছাড় করা হবে। আমরা আশাবাদী, আগামী জুন মাসের মধ্যে ছাত্রাবাসগুলো শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, যে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল তার সামান্য অংশ পাওয়া গেছে।তা দিয়েই সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বাকি বরাদ্দ অতিদ্রুত ছাড় করা হবে। এর ফলে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রাবাসগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া সম্ভব হবে।