খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু

আপডেট: মার্চ ১৮, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

ড. কাজী মুহাম্মদ ওয়াজীর হায়দার


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নুরুল আমীন সরকার আকস্মিকভাবে ১৪৪ ধারা জারি করলে বাংলার ছাত্র সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে  সালাম, বরকত, রফিক, শফিউরসহ কয়েক জন শহিদ হন। শেখ মুজিব জেলখানা থেকেই এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। জেলখানাতে শেখ মুজিব একটানা ১৩ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন এবং ঘোষণা করেন ‘‘ঊরঃযবৎ ও রিষষ মড় ড়ঁঃ ড়ভ ঃযব লধরষ ড়ৎ সু ফবধফনড়ফু রিষষ মড় ড়ঁঃ.”। জেলখানা থেকে আন্দোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখার দায়ে শেখ মুজিবকে ঢাকা জেলাখানা থেকে ফরিদপুর জেলখানায় সরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হওয়ায় ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। ১৯৫৩ সালের ৯ জুলাই পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ মুজিব দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১০ মার্চ ১৯৫৪ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিব গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৫ মে শেখ মুজিব প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
১৯৫৫ সালের ৫ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরের ২১ অক্টোবর শেখ মুজিব আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহার করেন এবং তিনি পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিব কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। সংগঠনকে সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৫৮ সালের শুরুতে সমগ্র পাকিস্তানব্যাপি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে। ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আইযুব খান সামরিক শাসন জারি করে সকল রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ১১ আক্টোবর শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। বিনা বিচারে প্রায় ১৪ মাস জেলখানায় থাকার পর মুক্তি দিয়ে তাঁকে পুনরায় জেলগেট থেকেই গ্রেফতার করা হয়। পরে হাইকোর্টে রিট আবেদনে শেখ মুজিব মুক্তি পান। সামরিক শাসন ও আইয়ুব বিরোদী আন্দোলনে শেখ মুজিব গোপন রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে বিশিষ্ট ছাত্র নেতৃবৃন্দের দ্বারা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয় এবং একই বছরের ২ জুন চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৬৩ সালে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে শেখ মুজিব তাঁর সাথে দেখা করা ও পরামর্শের জন্য লন্ডন যান। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী বৈরুতে ইন্তেকাল করেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। সভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
১৯৬৫ সালে ১৭ দিনব্যাপি পাক-ভারত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধকালীয় পূর্ববঙ্গ সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকায় বাঙালিদের মধ্যে ধূমায়িত অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের পরপরই স্বায়ত্বশাসনের প্রবক্তাদের অন্যতম শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্বশাসন আদায় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। শেখ মুজিব ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি স্বায়ত্বশাসনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ছয়দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি সারা দেশ জুড়ে ছয়দফার প্রচার শুরু করেন।  ৬ দফার প্রচারণার এক পর্যায়ে ৮ মে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব দেশরক্ষা আইনে গ্রেফতার হন। এই বছরের প্রথম তিন মাসে শেখ মুজিব আটবার গ্রেফতার হন। এই গ্রেফতারের পূর্বে ২০ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৫০ দিনে তিনি ৩২টি জনসভায় ভাষণ দেন। ১৮ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘আগরতলা’ ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ঘোষণা করা হয় এবং তাঁকে জেলে বন্দি রাখা হয়। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে আইযুব বিরোধী ছাত্র-আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে এবং ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহিদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করলে আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। ড. জোহার মৃত্যু সংবাদে সারাদেশে ব্যাপক গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ১৯ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি সমস্ত দিন ধরে ঢাকায় খ- খ- মিছিল হয় এবং মিছিলে মাত্র দুটি স্লোগান ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জেলের তালা ভাংবো, শেখ মুজিবকে আনবো’ উচ্চারিত হয়। আইযুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রামের পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এই জনসভায় ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তৎকালীন ডাকসুর ভিপি ও সভার সভাপতি তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে  ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং এখানেই ‘জয় বাংলা’ সেøাগানের উদ্ভব ঘটে।
১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়াদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেন “এক সময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নিটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। আমি শেখ মুজিব জনগণের পক্ষ থেকে হইতে ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ”।
৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। ৩ মার্চ ১৯৭১ সালে ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সভায় ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি” শীর্ষক একটি ইশতেহার প্রচার করা হয়। এতে বলা ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ- দীর্ঘজীবী হউক; স্বাধীন কর স্বাধীন কর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর; স্বাধীন বাংলার মহান নেতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব; গ্রামে গ্রামে দূর্গ কর- মুক্তিবাহিনী গঠন কর; বীর বাংগালি অস্ত্র ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর; মুক্তি যদি পেতে চাও- বাংগালিরা এক হও।’
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা লাভের পরও ইয়াহিয়া-ভুট্টো যখন ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে গড়িমসি শুরু করে তখনই ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষ মানুষের উত্তাল জনসমুদ্রে স্বাধীনতার ডাক দিলেন, বললেন- “আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাইনা, আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই…। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। সেদিনের সেই জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু জনগণের উদ্দেশ্যে আরও বলেন “তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।” বঙ্গবন্ধুর এই উদাত্ত আহবানে স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্দীপ্ত বাঙালি স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করলো।
২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে। ওই রাতেই ১ টা ১০ মিনিটে (২৬ মার্চে প্রথম প্রহর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে বন্দি করে এবং পরে তাঁকে পাকিস্তানে নিয়ে মিয়াওয়ালী কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ২৫ মার্চের মধ্য রাতের গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ প্রদান করেন। স্বাধীনতার ঘোষণায় তিনি বলেন- ‘‘ঞযরং সধু নব সু ষধংঃ সবংংধমব, ভৎড়স ঃড়ফধু ইধহমষধফবংয রং রহফবঢ়বহফবহঃ. ও পধষষ ঁঢ়ড়হ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ভ ইধহমষধফবংয, যিবৎবাবৎ ুড়ঁ সরমযঃ নব ধহফ রিঃয যিধঃবাবৎ ুড়ঁ যধাব, ঃড় ৎবংরংঃ ঃযব ধৎসু ড়ভ ড়পপঁঢ়ধঃরড়হ ঃড় ঃযব ষধংঃ. ণড়ঁৎ ভরমযঃ সঁংঃ মড় ড়হ ঁহঃরষ ঃযব ষধংঃ ংড়ঁষফবৎ ড়ভ চধশরংঃধহ ড়পপঁঢ়ধঃরড়হ ধৎসু রং বীঢ়বষষবফ ভৎড়স ঃযব ংড়রষ ড়ভ ইধহমষধফবংয ধহফ ভরহধষ ারপঃড়ৎু রং ধপযরবাবফ.”।
জেগে উঠল বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাংলার আপামর জনগণ। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে দেশীয় স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এবং বিদেশি যড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে ৩০ লক্ষ শহিদের রক্ত আর ২ লক্ষ ৬৯ হাজার মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাঙালির আজন্ম লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতার সোনালী সূর্য উদয় হয়। বিশ্ব-মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে নতুন একটি দেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন পরশপাথরের মতো। তাঁর দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় গোটা বাঙালি জাতি নিরস্ত্র থেকে সশস্ত্র হয়েছিল, অচেতন থেকে সচেতনতার এমন এক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল যে, তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের। জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। স্বদেশে কিংবা বিদেশে সমসাময়িক নেতা বা রাষ্ট্রনায়কদের তেজোময় ব্যক্তিত্বের ছটায় সম্মোহিত ও উদ্দীপ্ত করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তাঁর। বীরত্ব, সাহস ও তেজস্বিতার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে তিনি ছিলেন ভাস্বর। তাঁর কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল ন্যায়সঙ্গত। জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন আর স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু ছিল বঙ্গবন্ধুর নিত্যসঙ্গী। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন বহুবার। একাধিকবার ফাঁসির মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তাঁর জন্য। বাঙালির প্রতি তাঁর বিশ্বাস এবং আস্থার পরিমাণ ছিল আকাশচুম্বী। আর, তাই বীরদর্পে হাসি মুখে, নির্ভীক চিত্তে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যে সকল জুলুম-নির্যাতনকে বরণ করেছেন। ১৯৭৫ সালের মধ্য আগস্টের কালো রাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহিদ হয়েছেন। ওই রাতে বাংলাদেশ বিদীর্ণ হয়েছে। ক্ষতবিক্ষত হয়েছে বহু রক্তে কেনা জাতীয় পতাকা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর জীবনকে  সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছে কিন্তু ব্যক্তি মুজিব হারিয়ে গেলেও জনতার বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব।
লেখক : প্রভাষক, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ