খোদ জিয়াউর রহমানও ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিতেন ও লিখতেন

আপডেট: July 29, 2020, 12:15 am

ফিকসন ইসলাম


বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তাল ডাক হচ্ছে ‘জয় বাংলা’। এটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্লোগান। বছর দশেক আগে মহামান্য হাইকোর্ট এই শ্লোগানকে জাতীয় শ্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এর উদ্দীপক শ্লোগান ছিলো এটি। এই শ্লোগান কোনো ব্যাক্তি বা রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক শ্লোগান ছিলোনা, এটি আমাদের দেশের আপামর বাঙালির প্রানের অদ্বিতীয় উদ্দীপনামূলক ডাক।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বংগবন্ধুকে হত্যার পর এই শ্লোগানকে মুছে ফেলতে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীরা বিভিন্নভাবে অপকৌশল আর অপপ্রচার চালিয়ে এসেছিলো, কিন্তু শেষ পযন্ত সত্যিকারের ইতিহাসের জয় হয়েছে হাইকোর্ট’র ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করুক বা নাই করুক সকলেই উদ্দীপক শ্লোগান দিয়েছিলো কেবলমাত্র স্বাধীনতা বিরোধিরা ছাড়া।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষীকি। ১৯৭৮ সালের এই দিনে সামরিক সেনা ছাউনি তে জন্ম নেয়া এই দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক ও রাষ্ট্রপতি জেনা. জিয়াউর রহমান। তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ না করেই কিম্বা চাকরি থেকে পদত্যাগ না করেই একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর পরের বছরে তিনি জারি করেন সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা’ ১৯৭৯। যাতে বলা হয় কোন সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল এ যোগদান করতে কিম্বা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং বীর উত্তম রাষ্ট্রীয় খেতাব অর্জন করেন। সত্যি কথা বলতে কি এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের তিনি ছিলেন অন্যতম বেনিফিসিয়ারি। মাত্র চার বছরে তিনি চার চারটি পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন।
পরবর্তীতে তিনি এই রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশ পরিচালনা করেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা কখনোই “জয় বাংলা” শ্লোগানকে মেনে নেয়নি বা কখনো এটা স্বীকার করতে চায় না, মূলতঃ স্বাধীনতার এই শ্লোগানটি একটি নিরপেক্ষ শ্লোগান হলেও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও তাদের দোসররা এই শ্লোগান কে কেবলমাত্র মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের শ্লোগান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস চালিয়ে এসেছে। অথচ ইতিহাস অন্য কথাই বলে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সবসময় জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে এসেছিলেন এবং লিখেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বঙ্গবন্ধুর “বাকশাল” এর সদস্য পদও গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি যে মনে প্রাণে এ উদ্দীপক শ্লোগান “জয় বাংলা”কে লালন পালন ও ধারণ করতেন তার একটি উদাহরণ দেবার জন্যই আজকের এই উপস্থাপনা। ১৯৭২ সালে তিনি যখন সেনাবাহিনীর কর্নেল পদে চাকরিরত ছিলেন তখন ডরহভরবষফ নামের একটি বিদেশি সংস্থাকে এক শুভেচ্ছা বাণীতে নিজ হাতে বাংলা ও ইংরেজিতে “জয় বাংলা” লিখেছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৫শে মে তারিখে লেখা এই শুভেচ্ছা বাণীটি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো। তিনি ইংরেজিতে লড়ু ইধহমষধ লিখার পর আবার বাংলায় “জয় বাংলা” লিখে জিয়া নামটি স্বাক্ষর করার পর সংক্ষেপে ইংরেজিতে ঈড়ষ লিখেন।
লেখক: প্রকৌশলী