খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আপডেট: মে ২৮, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ


আহলান, সাহলান, খোশ আমদেদ মাহে রমজান। আল্লাহ পাকের দরবারে লাখো শুকরিয়া। বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে এল অসীম রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে বছরের শ্রেষ্ঠতম মাস রমজানুল মুবারক। আত্মশুদ্ধি আর আল্ল¬াহর নৈকট্য অর্জনের পূণ্যময় এ মাসটি বিশ্ব মুমিন-মুসলমানদের কাছে খুবই আনন্দের। আল্ল¬াহতাওয়ালারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন কাক্সিক্ষত এই মাসের শুভাগমনের। পার্থিব লোভ-লালসা থেকে মুক্ত থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ত্যাগ, সহিষ্ণুতা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার প্রশিক্ষণে এ মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ দুমাস অর্থাৎ রজব ও শাবান ধরে অধীর আগ্রহে রমজানের জন্য অপেক্ষা করতেন এবং রমজানের যাবতীয় নেয়ামত অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। তিনি মহান আল্ল¬াহর শাহী দরবারে দোয়া করতেন- আল¬াহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বালি¬গনা রামাদান- হে আল্লাহ, তুমি রজব ও শাবানে আমাদের বরকত দাও এবং আমাদেরকে রমজানে পৌঁছিয়ে দাও। সেই কাক্সিক্ষত রমজান এখন আমাদের মাঝে।
রহমত, বরকত ও নেয়ামতে পরিপূর্ণ ইবাদতের মাস রমজানের পরিচয় দিতে গিয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন, রমজান এমন এক মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। এরপরই তিনি বলেছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন অবশ্যই এ মাসে রোজা পালন করে। (সূরা বাকারা-১৮৫)
রাসূলুল্ল¬াহ সাল্ল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম রমজানের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, তোমাদের সামনে এমন এক বরকতময় মহান মাস ছায়াস্বরূপ আসছে, যাতে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার প্রথম ভাগে রয়েছে রহমত, দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে রয়েছে জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত বা মুক্তি। রমজান সহমর্মিতার মাস। ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের পুরস্কার জান্নাত। মাহে রমজানের বরকতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় দোজখের দরজাগুলো। শয়তানকে বন্দি করা হয়। ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, হে কল্যাণকামী! সামনে অগ্রসর হও। হে অকল্যাণকামী! সংযত হও।
পারস্পরিক সহমর্মিতা, সোহার্দ্যবোধ, আত্মশুদ্ধি, ত্যাগের মহান শিক্ষা ও অনুশীলনে রমজানুল মুবারকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য ও ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানবজীবনকে মহীয়ান ও সফল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই রমজানুল মুবারকের শুভ আগমন। রমজানুল মুবারকের সিয়াম সাধনা সর্বক্ষেত্রে আমাদের জীবনকে করে পবিত্রময় ও ঐশ্বর্য্যমণ্ডিত। অত্যন্ত মহিমান্বিত ও ফজীলতপূর্ণ মাস রমজান গুনাহ মাফ করিয়ে নেয়ার মাস। আমলের মধ্যে সময় অতিবাহিত করে আল্ল¬াহ পাকের নৈকট্য অর্জনের মাস। রাসূলুল্ল¬াহ সাল্লাল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম বলেছেন, রমজান মাসে কেউ যদি একটি নফল কাজ করে তাহলে সে ফরজের সমতুল্য সওয়াব পাবে। পক্ষান্তরে একটি ফরজ আদায় করলে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমতুল্য সওয়াব পাবে। তিনি আরও বলেন, যে রমজান পেল অথচ তার গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না সে চরম হতভাগা।
পুরো রমজান মাস আমাদের সামনে। রোজা, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তার নৈকট্য অর্জন ও সব ধরনের গুনাহ হতে বিরত থেকে হৃদয় ও আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করার তাওফীক দান করুন। যাতে মাস জুড়ে তাকওয়ার অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি হয় বছরের বাকি দিনগুলোতে পাপ-পঙ্কিলতামুক্ত থাকার যোগ্যতা।
লেখক: পেশ ইমাম, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট জামে মসজিদ, রাজশাহী