খ্যাতিমান অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদআর নেই

আপডেট: জুলাই ৮, ২০২২, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


না ফেরার দেশে চলেগেলেন দেশের খ্যাতিমান অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ। শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
শর্মিলী আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। চলছিল কেমো। সম্প্রতি সর্বশেষ কেমো দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।

বরেণ্য এই অভিনেত্রীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজার পর তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে বাদ জুমা উত্তরায় ১১নং সেক্টর মসজিদের শর্মিলী আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
শর্মিলী আহমেদের মৃত্যুতে অভিনয় জগতে এরইমধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাদের সময়ের অসারণ এক অভিনয়শিল্পী, আমার প্রিয় চাচি আজ সকালে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। তার প্রয়াণে গোটা নাট্যজগত তাদের সবার প্রিয় ‘আম্মা’কে হারালেন।’

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, শর্মিলী আহমেদের ১৯৪৭ সালের ৮ মে মুর্শিদাবাদের বেলুর চাক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র চার বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেন শর্মিলী। তিনি রাজশাহী পিএন গার্লস হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা পাস করেন। অভিনয়কে পেশা হিসেবে শুরু করেন ১৯৬৪ সালে। তারও আগে ১৯৬২ সালে রেডিওতে এবং ১৯৬৪ সালে চলচ্চিত্রে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘দম্পতি’তে কাজ করেছেন।

১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ মহসিন পরিচালিত ‘আগুন’ নাটকে প্রথমবারের মতো মায়ের ভূমিকা পালন করেছিলেন। মূলত এরপর থেকে নাটক ও সিনেমায় শর্মিলী আহমেদ হয়ে ওঠেন তারকাদের অলিখিত মা। শর্মিলী আহমদের তানিমা নামের এক মেয়ে আছেন। তার ছোট বোন আরেক নিয়মিত অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি।

১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ মহসিন পরিচালিত ‘আগুন’ নাটকে তিনি প্রথমবারের মত মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন। মা ভূমিকায় তার অভিনয় ছিল নজরকাড়া। ২০১৮ সালে সিয়াম আহমেদ ও পূজা চেরি অভিনিত ‘দহন’ সিনেমাটির জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র অভিনেত্রী বিভাগে পেয়েছিলেন ‘বাচসাস’ পুরস্কার।

শর্মিলীর বেড়ে উঠা রাজশাহীর মেহেরচন্ডী এবং সাগরপাড়ায়। তাঁর পুরো পরিবার সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে বিশেষ করে থিয়েটারের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে যুক্ত ছিলো। তাঁর বাবা তোফাজ্জল হোসেন যিনি রাজশাহী এতদ অঞ্চলে থিয়েটারের মানুষদের কাছে তোফাজ্জল মাস্টার নামে পরিচিত ছিলেন। অসম্ভব ভালো একজন নির্দেশক হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিলো। মূলত বাবার অনুপ্রেরণায় মেয়ে শর্মিলী ও জলির অভিনয় জগতে পদার্পণ।

ষাটের দশকে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নাম লেখালেও তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘ঠিকানা’ (উর্দু ভাষায় নির্মিত) আলোর মুখ দেখেনি। তবে সুভাষ দত্তের ‘আলিঙ্গন’, ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ এবং ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্র দিয়ে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন।

শর্মিলী আহমেদের স্বামী রকিবউদ্দিন আহমেদও ছিলেন পরিচালক। তার নির্মিত ‘পলাতক’ ছবিতে অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহমেদ। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে আরও কিছু উর্দু ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন। স্বাধীনতার পর ‘রূপালী সৈকতে’, ‘আগুন’, ‘দহন’-এর মতো জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্রে ছিল তার সরব উপস্থিতি।

শর্মিলী আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—’মালঞ্চ’, ‘দম্পতি’, ‘আগুন’, ‘আবির্ভাব’, ‘পৌষ ফাগুনের পালা’, ‘মেহেরজান’, ‘আবার হাওয়া বদল (২০১৪)’, ‘বৃষ্টির পরে (২০০৫)’, ‘আমাদের আনন্দ বাড়ি (২০০৫)’, ‘আঁচল (২০০৬)’, ‘আগন্তুক (২০০৫)’, ‘ছেলেটি (২০১১)’, ‘উপসংহার (২০১০)’ ইত্যাদি।
শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ নাটক ও ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ