গঙ্গা নদী ও এর পার্শ্বস্থ অববাহিকায় কমছে পানি বাংলাদেশে সতর্ক পদক্ষেপ কী হবে?

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের শাখা সংগঠন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও ‘স্টেট অফ গ্লোবাল ওয়াটার রিসোর্স ২০২১’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত দু’দশকে গঙ্গা নদীর মোট পানির পরিমাণ কমেছে। শুধু গঙ্গারই নয়, নদী পার্শ্বস্থ অববাহিকা অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। ২৯ নভেম্বর এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ব্যাপক হারে কমেছে গঙ্গা নদীর পানির পরিমাণ। কমেছে গঙ্গার অববাহিকা অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণও। শুধু গঙ্গা নয়, একই ধরন দেখা গিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার পাটাগনিয়ার সাও ফ্রানসিসকো নদীর অববাহিকা, সিন্ধু নদের অববাহিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার বিস্তীর্ণ নদী অববাহিকা অঞ্চলে। তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছে নাইজার নদী অববাহিকা এবং উত্তর আমাজন নদী অববাহিকায়। সেখানে ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আশংকা জাগায় যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহের বরফ গলে নদীতে পানির পরিমাণ বাড়াচ্ছে ঠিকই, কিন্তু একটা সময়ের পর তা হ্রাস পেতে শুরু করে। হিমবাহ গলনের প্রভাব এখনই টের পাওয়া যাচ্ছে সিন্ধু অববাহিকা এবং গঙ্গা নদীর অববাহিকা অঞ্চলগুলিতে।
ডব্লিউএমও-র ওই প্রতিবেদনে গঙ্গা নদী ও এর পার্শ্বস্থ অববাহিকা অঞ্চলের প্রভাব মধ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও পড়েছে। গঙ্গা নদী যেহেতু বাংলাদেশের ওপর দিয়েও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেÑ তাই স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, বাংলাদেশও নেতিবাচক প্রভাবের বাইরে নয়। এবং সে প্রভাবের দৃশ্যমানতাও বিশেষ করে দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ উপলব্ধি করছে। ইতোমধ্যেই এ অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানি ক্রমশই অধোমুখি হচ্ছে এবং পুনর্ভরণের প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা ভবিষ্যতে মারাত্মক বিপদ দেখছেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলে যেসব অভিঘাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা নিয়ে বেশ হইচই হচ্ছে বটে কিন্তু অভিযোজন প্রক্রিয়ায় যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা নেহাতই অপ্রতুল। এখনো উদ্যোগের কার্যকর কিংবা আশ্বস্ত হওয়ার মত কোনো সফলতা দেখা যায় না। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগের খুব সামান্যই লক্ষ্য করা যায়। অখচ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অভিঘাতজনিত পরিস্থিতির তুলনায় এ উদ্যোগ পশ্চাদপদ অবস্থা বই কিছু নয়। ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের গুরুত্বকেও তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও মনে হয় না। বরং ভূ-উপরিস্থ পানির আধার ক্রমশই কমছে বলেই সংবাদ মাধ্যমের তথ্য। দেশের নদী ও জলাশয়ের পানি সংরক্ষণের টেকসই কোনো ব্যবস্থাই লক্ষ্য করা যায় না- যাতে করে আস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পানির আধার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে উদ্যোগের গতি সঞ্চারিত হচ্ছে না। অথচ কাজটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের পরিবেশসম্মতভাবে বেচে থাকার জন্য অপরিহার্য। দুঃসহ সময়টা সমাসন্ন বলেই ধারণা করা হচ্ছে অথচ একান্ত প্রয়োজনীয় কাজটি গুরুত্বহীনই থেকে যাচ্ছে। এর ফলে কিছু মানুষের লোভই উৎসাহিত হচ্ছে। এটা আত্মবিমুখ প্রবণতা নয় কি? সতর্ক পদক্ষেপ নিতে এখনই তৎপর হওয়া প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ