গণপরিবহণেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতই থাকছে

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনা মহামারি প্রতিরোধে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনার ছয় নম্বরে বলা হয়েছিলো- ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী নিতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে এই শর্ত শিথিল করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণপরিবহনে যত আসন রয়েছে তত যাত্রী পরিবহন করা হবে। তবে সব যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারীসহ সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারের কথা বলা হয়। কিন্তু গণপরিবহণে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের তেমন কোনো সচেতনতা দেখা যায় নি। রাজশাহীর আন্তঃপরিবহণ ও দূরপাল্লার অধিকাংশ পরিবহণসহ ট্রেনেও মাস্ক ব্যবহারে যাত্রীদের উদাসীনতা দেখা গেছে।

রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, রেলগেট, ঘোড়া চত্বর, কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, এসব এলাকা থেকে যেসকল যাত্রী বাসে উঠছেন কিংবা নামছেন তাদের অনেকের কাছেই মাস্ক আছে। কিন্তু সেটা হাতে কিংবা থুতনিতে ঝুঁলানো। যাত্রীদের কয়েকজন জানান, ওমিক্রনের কারণে নতুন করে সরকার নিয়ম করেছে। এটা তারা শুনেছেন। মাস্ক ব্যবহারে কড়াকড়ি করা হবে এটা জেনে কাছে মাস্ক রাখছি। কিন্তু সব সময় পরে থাকা হয় না। এছাড়া কাছে মাস্ক নেই এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোনো সাড়া না দিয়ে দূরে চলে গেছেন। কয়েকজনের উত্তর এমন ছিলো-এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে কোনো কথা নেই।

নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সাইফুল ইসলাম। যাকে দেখে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন বলেই মনে হয়েছে। তিনি বলেন, আমার বাসা নোয়াখালি। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে একটি কাজে এসেছিলাম। এখন ঢাকায় যাবো। শ্যামলী ট্রাভেলসের টিকিট কেটেছি। নতুন করে ওমিক্রনের সংক্রমণের কারণে আমি চিন্তিত। সরকারি নির্দেশনা জারি করার আগে থেকেই মাস্ক পরছি। কিন্তু নির্দেশনা জারি করার পরেও কাল আসার সময় বাসের যাত্রীদের মুখে মাস্ক দেখিনি। তবে গাড়িতে ওঠার সময় যাত্রীদের প্রায় সবার মুখেই মাস্ক ছিলো। আজকের চিত্রও এমনিই হবে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ আমরা সচেতন হয়ে মাস্ক পরছি না। প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে মাস্ক পরছি। এটা আসলে কতটুকু কার্যকরি হবে এটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। শুধু পরিবহণ না খাবার হোটেল, চায়ের দোকান, বাজার সব জায়গাতেই একই অবস্থা।

অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তঃপরিবহণ ও দূরপাল্লার পরিবহণে যাত্রীদের ভিড় ছিলো না। বাসে আসন সংখ্যার চেয়ে কম যাত্রী নিয়েই নগরী থেকে ছেড়ে যেতে এবং প্রবেশ করতে দেখা গেছে। একতা পরিবহনের ড্রাইভার মামুন বলেন, আমাদের পরিবহন সরকারি নির্দেশনা মেনেই চলছে। এজন্য সে সকল যাত্রী আমরা উঠাচ্ছি না যাদের করোনার টিকা দেয়া নেই। তাছাড়া মাস্ক পরিধান এবং দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করছি।

এমপি সাফারি পরিবহনের টিকিট মাস্টার ডাবলু বলেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ নতুন করে চিন্তার ভার তৈরি করেছে। এখন আবারও বাধ্যতামূলকভাবেই মাস্ক পরতে হবে। বৃহস্পতিবারের চেয়ে শুক্রবারে আমাদের যাত্রী সংখ্যা কম আছে। আবহাওয়া ভালো না। এরমধ্যে কড়াকড়ি। এখন ভ্যাকসিনের টিকা সনদ নিয়ে নতুন বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। আর এসময় শাস্তি বা অপমানের ভয় অনেকেই করে। এছাড়া তাদের সিট সংখ্যার বেশি কোনো যাত্রী নেয়া হচ্ছে না বলেও জানান।

এদিকে, রেলওয়ে স্টেশনে মাস্ক না পরেই যাত্রীসহ রেলওয়ে কর্মচারীদেরও ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মে আগত ও ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীদেরও বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহারে উদাসীন থাকতে দেখা গেছে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের উদ্যেশ্যে একটু পর পর বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। যাতে যাত্রীরা সকলেই মাস্ক পরেন। আর সিট অনুযায়ী যাত্রী নেয়া হচ্ছে। তবে লোকাল ট্রেনে অনেক সময় দেখা যায়, টিকিট ছাড়া কিছু যাত্রী উঠে পড়ে। তবে এরকম ওঠার আর সুযোগ থাকছে না। কারণ যাত্রী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। টিকেট চেকিং এর জন্য টিকিট মাস্টার ছাড়া আর টিকিট ক্রয় করা যাত্রী ছাড়া ট্রেনে আর হাঁটা চলা করাও সুযোগ থাকছে না। শনিবার থেকে এবিষয়ে আরও জোরদার করা হবে।

এছাড়া, নগরীতে বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটদের অনেকটাই তৎপর থাকতে দেখা গেছে। এদিন জেলা প্রশাসনের অভিযানে ৬ জনকে ১ হাজার ২০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) সাবিহা সুলতানা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে। এখন সচেতনতামূলক কার্যক্রম বেশি পরিচালিত হচ্ছে। খাবার হোটেলগুলোতে মোবাইল টিম যাচ্ছে। পরিবহণেও মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে। তবে এ তৎপরতা সামনে আরও বাড়বে।