গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তাদের ঘেরাও করলেন মুসল্লিরা নামাজ চলাকালে উচ্চশব্দে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আপডেট: মার্চ ২২, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নামাজের সময় উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখার কারণে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তাদের ঘেরাও করেছেন। এ ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত সোমবার রাতে এশার নামাজের সময় রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি এলাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত কার্যালয়ের মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

মুসল্লিরা অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে এশার নামাজ চলাকালে মসজিদের পাশে গৃহায়ন ও গণপূর্ত কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় ব্যান্ড দলের শিল্পীরা উচ্চশব্দে পারফর্ম করছিলেন। নামাজের বিঘ্ন ঘটায় একজন মুসল্লি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে নামাজ চলাকালে অনুষ্ঠান বন্ধের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তা না শুনে অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখেন। এরপর নামাজ শেষ হলে উত্তেজিত শতাধিক মুসল্লি কনফারেন্স রুম ঘেরাও করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী জানান, এরপর বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আমানুল্লাহর দিকে এগিয়ে যান। তবে এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজাদ এবং রাজপাড়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক খিচ্চু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উত্তেজিত মুসল্লিদের রোষ থেকে রক্ষা পান। এসময় ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ওই মসজিদের মুসল্লি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, সাউন্ড বক্সে উচ্চশব্দে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হওয়ায় নামাজের বিঘ্ন ঘটে। একারণে মুসল্লিরা উত্তেজিত হয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ অন্যদের ঘেরাও করেন। সেখানে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। তবে তাদের লাঞ্ছিতের কোন ঘটনা ঘটে নি। আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত মুসল্লিদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে এনেছি।

এ ব্যাপারে পার্শ্ববর্তী এলাকা কাজিহাটার বাসিন্দা ও আট নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, প্রতি মাসেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত কার্যালয়ের মসজিদে নামাজের সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কারণে নামাজের বিঘ্ন ঘটে। এর আগেও বিষয়টি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি মুসল্লিদের আপত্তি আমলে নেন না। আর এ কারণে সোমবার এশার নামাজের সময় বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছেন। এঘটনায় ওই মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বলেন, সোমবার রাজশাহী রিজিওনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে সমন্বয় সভা ছিলো। বিকেল পর্যন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। নামাজের সময় বিষয়টি খেয়াল করা হয় নি। তবে উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্সে গান পরিবেশনের বিষয়টি ঠিক না। সাউন্ড অল্প ছিলো। এরপরেও মুসল্লিরা প্রতিবাদ করায় আমি ‘সরি’ বলেছি। এর জন্য ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ