গনগনে উত্তপ্ত পৃথিবীতে জলধারা এল কোথা থেকে? নতুন উৎস খুঁজে বের করলেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট: August 29, 2020, 2:14 pm

সোনার দেশ ডেস্ক :


পৃথিবী সৃষ্টিরহস্যের নেপথ্যে ‘বিগ ব্যাং’ (Big Bang) থিওরি এখন অতি পরিচিত। মহাকর্ষের টানে প্রচন্ড বিস্ফোরণের জেরে পৃথিবী ও আরও নানা গ্রহ তৈরির এই তত্বকে অধিক সমর্থন করে আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান। যদি তাইই হয়, তাহলে বিস্ফোরণের ফলে তপ্ত পৃথিবী কীভাবে বিপুল জলরাশি নিয়ে নীলগ্রহে পরিণত হল? এই প্রশ্নও উঠেছে। আর তার উত্তরই খুঁজে বের করলেন একদল ফরাসি বিজ্ঞানী। গবেষণার পর তাঁদের উত্তর, উল্কাখন্ড (Meteorites) পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে নানা উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে জলরাশি অর্থাৎ সমুদ্র তৈরি হয়েছে।
‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি?’ – এই না জানার যন্ত্রণা থেকেই মানুষের জ্ঞানের প্রতি যত আগ্রহ। কৌতূহল আর প্রশ্নের তো অন্ত নেই। একদল ফরাসি বিজ্ঞানীর মনে তাই প্রশ্ন উঠেছিল, যদি বিস্ফোরণের ফলেই পৃথিবীর জন্ম হয়ে থাকে, তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় তো শুধুই গ্যাসীয় পদার্থ ছাড়া আর কিছুই থাকা সম্ভব নয়। তাহলে অন্যদের থেকে পৃথক হয়ে বাসযোগ্য নীলগ্রহ হয়ে উঠল কীভাবে এই ধরিত্রী?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গবেষণা শুরু করেন তাঁরা। তাতেই বুঝতে পারেন, প্রাথমিকভাবে পৃথিবীও অন্যান্য গ্রহের মতো এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে বরফ জমাট বাঁধার মত পরিস্থিতিই ছিল না। পরবর্তী সময়ে এখানে উল্কাপাতের ফলে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়ার ফলে জলের আবির্ভাব।Carbonaceous chondrite – এই যৌগই জল তৈরির নেপথ্যে রয়েছে, যা কি না উল্কার মূল উপাদান।
ফ্রান্সের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গবেষণা চলকালীন কসমোকেমিস্ট লরেট পিয়ানি Carbonaceous chondrite যৌগ সমৃদ্ধ অন্তত ১৩ রকমের পাথর খুঁজে বের করেন। এরপর মাস স্পেকট্রোমেট্রিতে পরীক্ষা করে দেখেন, তাতে কত পরিমাণ হাইড্রোজেন (Hydrogen) আছে। জল তৈরির বিজ্ঞান যে হাইড্রোজেন-অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া, তা তো সকলেরই জানা। পিয়ানির সেই পরীক্ষার পরই মূল উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হন তাঁরা। গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব উল্কাখন্ড অর্থাৎ Carbonaceous chondrite যৌগসমৃদ্ধ পাথরে হাইড্রোজেনের পরিমাণ এতটাই যে পৃথিবীর সাত সমুদ্রে যে পরিমাণ জল, তার চেয়ে প্রায় তিনগুণ জল তৈরির ক্ষমতা আছে। হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটোপ এই এক পাথরখন্ডই রয়েছে। আর তার দৌলতেই আমরা পেয়েছি আজকের পৃথিবীকে – তিনভাগ জলসমৃদ্ধ নীলগ্রহ।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ