‘গফুর’ নামে টিকিট কাটেন ফরহাদ মজহার!

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মধ্যরাতে যশোরের নওয়াপাড়ায় একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভয়নগর পুলিশ নওয়াপাড়ায় ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে। তিনি ওই বাসে আই-থ্রি সিটের যাত্রী ছিলেন। হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার জানিয়েছেন টিকিটে ফরহাদ মজহারের নাম লেখা ছিল ‘মিস্টার গফুর’।
নওয়াপাড়া থেকে তাকে খুলনা নিয়ে যায় র‌্যাব-৬। রাত দেড়টার দিকে ফরহাদ মজহারকে ঢাকার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে সকালে তাকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেন তারা।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, অভয়নগর থানা পুলিশ হানিফ পরিবহনের একটি এসি বাস থেকে কবি ও সাংবাদিক ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করেছে। এরপর র‌্যাব সদস্যরা তাকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করেন। ফরহাদ মজহার গাড়িতে স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে খুলনা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
হানিফ পরিহনের ৫০৫ নম্বর এসি কোচটি যশোরের মণিহার স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে। এই গাড়িতে বসেই সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী অভয়নগর থানার ওসি আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে অভয়নগর থানা পুলিশ নওয়াপাড়া থেকে হানিফ পরিবহনের এসি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে। তাকে বাস থেকে নামিয়ে নেওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় র‌্যাবের টিম। র‌্যাব সদস্যরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, ফরহাদ মজহার খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে নিজেই ঢাকার টিকিট কাটেন। গাড়িতে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন।
হানিফ পরিবহনের ওই বাসের সুপার ভাইজার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ফরহাদ মজহার তার বাসের আই-থ্রি সিটের যাত্রী ছিলেন। তিনি খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে বাসে ওঠেন। বাসে উঠেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। নওয়াপাড়ার কাছাকাছি স্থান থেকে তিনি ফরহাদ মজহারের টিকেট চেক করেন। তার টিকেটে নাম লেখা ছিল মিস্টার গফুর। নওয়াপাড়ায় পৌঁছানোর পর পুলিশ তাকে গাড়ি থামাতে নির্দেশ দেয়। অভয়নগর থানা পুলিশ ফরহাদ মজহারকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর র‌্যাব সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।
বাসের পাশের সিটের যাত্রী ঢাকার বায়িং হাউজে চাকরিরত খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাপ্পী জানান, তিনি বাসে ওঠার সময় পাশের সিটের যাত্রী (ফরহাদ মজহার) ঘুমিয়ে ছিলেন। অল্প আলোর কারণে তিনি চিনতে পারেননি। তবে পুলিশ যখন তাকে বাস থেকে নামিয়ে নেয় তখন তিনি চিনতে পেরেছিলেন।
পাশের সিটের আরেক যাত্রী কুষ্টিয়া এলাকার শরিফুল জানান, তিনি পেশাগত কাজে খুলনার আবু নাসের হাসপাতালে এসেছিলেন। কাজ শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। তিনি ও ফরহাদ মজহার একই কাউন্টার থেকে বাসে উঠেছেন। তিনি প্রথমেই তাকে চিনতে পেরেছেন। পরে পুলিশ ও র‌্যাব তাকে নিয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি