গাছের মগডালে ঝুলে ৩ ঘন্টা অনলাইন ক্লাস!

আপডেট: জুন ১৩, ২০২১, ৬:১৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


গত বছরের মতো এ বছরও আমরা লকডাউন এর সময় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি। ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাচ্চাদের অনলাইন ক্লাস জারি রয়েছে। যখন প্রথম অনলাইন পড়াশোনার ভাবনাটি পোষণ করা হয় সেই সময়ে বেশ কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছিলেন আমাদের মতো দেশে এর কার্যকারিতা নিয়ে।
যেখানে বেশিরভাগ মানুষের এখনো অবধি শিক্ষার আলোয় প্রবেশ করতে পারেননি সেখানে এমন বিপুল সরঞ্জাম কেন এই প্রশ্নই উঠেছিল। প্রতিটি শিশুর হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়াও প্রতিটি মা-বাবার পক্ষে সম্ভব নয়।
তাই বহু শিশু এখনও নিজেদের অনলাইন ক্লাস এর আওতায় আনতে পারেনি।
আবার বহু জায়গায় এমন হচ্ছে যে নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে অনলাইন ক্লাসে যোগ করলেও সেই ক্লাস বেশিক্ষণ চালাতে পারছে না শিশুরা। এমনই সমস্যা হয়েছিল এই ব্যক্তির সঙ্গে। কিন্তু ক্লাস না করলে পিছিয়ে পড়বেন এই ভয়ে তিনি বাধ্য হয়ে এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে তারপর গাছের মগডালে চড়ে তিন ঘণ্টা ধরে ক্লাস করতেন। গত বছরের ঘটনা এটি।
মেঙ্গালুরুর বক্কালা গ্রামের শিরিষ তালুক এলাকায় ওই ছেলেটি বাস করতেন। শ্রীরাম হেজ পোস্ট গ্রাজুয়েট নিয়ে পড়ছিলেন। হাই স্পিড ইন্টারনেট না পেতে পারলে তিনি অনলাইন ক্লাসে দীর্ঘ সময় ধরে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাই বাধ্য হয়ে তাঁকে একটি উঁচু গাছের মগডালে উঠে ঝুলে ঝুলে পড়াশোনা করতে হতো।
সেটাও আবার তিন ঘন্টার জন্য এবং এক কিলোমিটার পায়ে হাঁটার পর। এক হাতে শক্ত করে গাছের ডাল ধরে থাকতেন এবং অপর হাতে স্মার্টফোন নিয়ে দিব্যি তিনি ক্লাস করতেন সহপাঠীদের সঙ্গে।
গ্রামে একটি বিশেষ নেটওয়ার্কই একমাত্র ভালো পাওয়া যেত। কিন্তু তিনি সেই সিম ব্যবহার না করায় তার ফোনে থাকা সিমটির নেটওয়ার্ক ভালো কাজে দিত না (ঢ়ড়ড়ৎ হবঃড়িৎশ)। সে কারণে তাকে এমন কষ্ট করতে হত। সকাল ১০ টা থেকে ক্লাস শুরু হতো তারপর আবার দুপুরবেলা ৩ টের সময় আরেকটি ক্লাস হত।
গরমের মধ্যে এবং প্রচ- রোদের মধ্যে তাকে এমনভাবেই ক্লাস করতে হতো নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে এর পরেই তার ভাবনা ছিল যে সামনে বর্ষাকাল আসলে তিনি কী করবেন। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অনলাইন ক্লাস এর সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই। এই ঘটনার ফলে শ্রীরাম ভাইরালও হয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র: শড়ষশধঃধ২৪ী৭