গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে ১১ ‘জঙ্গি’ নিহত

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

Gazipur_221475922242
সোনার দেশ ডেস্ক
শনিবার জঙ্গিদের ‘আস্তানায়’ নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো পৃথক তিনটি অভিযানে সন্দেহভাজন ১১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। গাজীপুরে অভিযান চালানো হয় দুটো আস্তানায়, যাতে মোট ৯ জন নিহত হয়েছে। এবং টাঙ্গাইলে একটি অভিযানে দুজন জঙ্গি নিহত হয়।
গাজীপুরে স্থানীয় র‌্যাবের পৃথক দুটি অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়েছে। শনিবার ভোরে গাজীপুর সিটি করপোরশন এলাকার হারিনালে র‌্যাবের অভিযানের পর বেলা পৌনে ১১টার দিকে নোয়াগাঁওয়ের আফারখোলা পাতারটেক এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সঙ্গে ছিল সোয়াট।
বিকালে অভিযান শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন সেখানে সাতজনের মৃত্যুর খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন। প্রথম অভিযানে দু’জন জঙ্গি নিহত হয়।
নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বলে জানান ছানোয়ার। ঘটনাস্থলে থেকে বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান তদারক করেন।
র‌্যাব ও পুলিশের দুই অভিযানের খবরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও গাজীপুরে যান। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান ও জাবেদ পাটোয়ারীও ছিলেন সেখানে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে যারা ছিল, সবাই জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। কিছু একটা করার জন্য তারা এখানে ছিল। এদের পরিচয় আমরা পরে জানাব।”
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেজর জিয়া বা লেফটেন্যৗন্ট জিয়া আমাদের কাছে ফ্যাক্টর না। কেউ পার পাবে না। আমরা সব ধরনের প্রচেষ্টা নিচ্ছি।”
যে বাড়িতে পুলিশের অভিযান চলে, তার মালিক সৌদি প্রবাসী সোলেমান সরকারের। তার ভাই কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক ওসমান গণি বাড়িটি দেখাশোনা করেন।
তিন মাস আগে তার কাছ থেকে তিনজন বাড়িটির দোতলা ভাড়া নেয়। ওই তিনজন জঙ্গি বলে ধারণা পুলিশের।
অভিযান শুরুর আগে ছানোয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “নিউ জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় কমান্ডার আকাশ অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।”
অভিযান শুরুর পর জঙ্গিরা ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে জানান কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল।
তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, নিচতলায় থাকা বাড়ির সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার পর দোতলায় থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল।
“আত্মসমর্পণ করতে বললে জঙ্গিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে জানালা দিয়ে গুলি করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তখন পাল্টা গুলি করছে।” ঘটনাস্থলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর রশিদও ছিলেন।
জয়দেবপুর থানার ওসি রেজাউল হাসান রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আফারখোলা পাতারটেক এলাকার দোতলা বাড়িটিতে অভিযান শুরুর আগে এর আধা কিলোমিটার পশ্চিমে হারিনাল এলাকার একটি বাড়িতে র‌্যাব অভিযান চালায়।
ভোরে হারিনাল পশ্চিমপাড়া লেবুবাজার এলাকার আতাউর রহমানের একতলা বাড়িতে পুলিশের সহায়তায় অভিযান শুরু হয় বলে র‌্যাব-১-এর উপ-অধিনায়ক কাজী মো. সোয়াইব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
সেখানে দুজন নিহত হওয়ার খবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।
তিনি বলেন, নিহতদের একজন রাশেদুল (২০) এবং অন্যজন তৌহিদুল ইসলাম (২২) বলে বাড়ির মালিক আতাউর জানিয়েছেন। তৌহিদ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েটে) শিক্ষার্থী, রাশেদ এবার এইচএসসি পাস করেছে।
ওই বাড়ি থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি পিস্তল, রাইফেলের ৭০ রাউন্ড গুলি, কিছু বিস্ফোরক ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। র‌্যাব-১ এর উপ-পরিচালক মহিউল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে এই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করা হয়।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি জঙ্গি আস্তানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হন। এরপর গাজীপুরে এক দিনে দুটি আস্তানায় অভিযান হল, যাতে নিহত হলেন নয়জন। টাঙ্গাইলে ২ জঙ্গি নিহত, অস্ত্র উদ্ধার টাঙ্গাইলে র‌্যাবের পাঁচ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে।
শনিবার সকালে শহরের পৌর এলাকার কাগমারা এলাকার মির্জামাঠের একটি তিনতলা বাড়িতে র‌্যাব এ অভিযান পরিচালনা করে।
পরে ওই বাড়ি থেকে একটি রিভলবার, একটি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, ১০টি চাপাতি, দুটি ল্যাপটপ ও ৬৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. শাহাবুদ্দিন খান বিকেল ৪টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শহরের কাগমারা মির্জামাঠের পার্শ্ববর্তী আজাহার আলী মাস্টারের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় কলেজছাত্র পরিচয়ে ২০-২৫ বছর বয়সী দুই যুবক একটি রুম বাসা ভাড়া নেয়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে ওই বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় আল্লাহু আকবর ধ্বনী দিয়ে জঙ্গিরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে দুই জঙ্গি নিহত হয়। এ সময় র‌্যাব পুরো এলাকা ঘিরে রাখে।
পরে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয় দলসহ র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা বাড়িটির ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় সেখান থেকে একটি রিভলবার, একটি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, ১০টি চাপাতি, দুটি ল্যাপটপ ও ৬৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
তবে এখন পর্যন্ত জঙ্গিদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক আজাহার উদ্দিন মাস্টারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
বাড়িওয়ালা আজাহার উদ্দিন মাস্টার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই যুবকরা ছাত্র পরিচয়ে বাসার নিচতলার একটি রুম ভাড়া নেয়। তাদের কাছে ছবি ও ঠিকানা চাইলে তারা জানায়, ২-১ দিনের মধ্যেই দেবে। এরই মধ্যে শনিবার র‌্যাব সদস্যরা বাসায় এসে জিজ্ঞাসা করতেই র‌্যাবের এক সদস্যকে রুমের বাইরে থাকা এক জঙ্গি জাপটে ধরে। পরে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে র‌্যাবের ওপর অপর জঙ্গিরা রুমের ভেতর থেকে গুলি চালায় ও র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়।
সূত্র : বিডিনিউজ, রাইজিংবিডি