‘গাধা তো গাধাই থাকে’ স্বঘোষিত উৎকৃষ্টের নষ্ট-কথন!

আপডেট: মে ৯, ২০২২, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

‘গাধা তো গাধাই থাকে’ ইমরান খানের মন্তব্যে ঝড় উঠেছে ইন্টারনেটে। পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন যে, একটি গাধা কখনো জেব্রা হয়ে যায় না। শুধুমাত্র আপনি তার গায়ে ডোরা আঁকতে পারেন। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের পডকাস্টের একটি স্নিপেট তাকে বলতে শোনা যায় যে ‘একটি গাধা গাধাই থাকে’।
স্নিপেটটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক পাকিস্তানি নেটিজেন লিখেছেন, ‘শাহবাজ শরিফ আমাদের ভিক্ষুক বলেছেন এবং ইমরান নিয়াজি আমাদের গাধা বলেছেন। মা শা আল্লাহ আমরা পাকিস্তানিরা এ ধরনের অনুপ্রেরণাদায়ক নেতাদের দ্বারা ধন্য। ’ আর মুরতাজা আলী শাহ নামে আরেকজন ইমরানকে উদ্দেশ্য করে রি-টুইট করেছেন, ‘জেব্রা হওয়ার ভান করা গাধা কখনো জেব্রা হতে পারে না।
রাজনীতিতে রাজনীতিকরা উপেক্ষিত হলে কিংবা অপাংক্তেয় হলে মানুষও যে গাধা হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেই সত্যটিই উচ্চারণ করেছেন। রাজনীতি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান- সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মিদের অব্যাহত অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে হয়। জনমানুষের হৃদস্পন্দন বুঝতে হয়। এর মধ্য দিয়েই একজন রাজনীতিক জনমানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে উঠেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে যথার্থ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহণ করতে পারেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেন। এভাবেই রাজনীতিতে প্রজ্ঞায় ও ব্যক্তিত্বে রাজনীতিবিদ তৈরি হয়।
পাকিস্তান এমনিতেই একটি ধর্মীয় উন্মাদনা সর্বস্ব একটি দেশ। দেশটিতে কখনোই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক চর্চা সম্ভব হয়ে উঠেনি। সেখানে কখনো প্রকাশ্যে কখনো বা নেপথ্যে থেকে সেনাবাহিনিই দেশটি শাসন করে থাকে। তারাই দেশটির রাজনীতির নিয়ামক শক্তি। দেশটির মূল ধারার রাজনীতিকরা ৭৫ বছরে সে বলয় ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার প্রয়াস চালিয়েছেন বটে কিন্তু তাতে সাফল্য আসে নি।
ইমরান খান বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি তার বিশাল প্রাপ্তির পরেও মনে করেছেন তার আরো পাওনা আছে। তিনি রাজনীতিতে সওয়ার হয়েছেন। রাজনীতির পাঠ গ্রহণের কোনো প্রয়োজন হয় নি তাঁর। ক্রিকেটীয় জনপ্রিয়তাকে সম্বল করেই তিনি রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েছেন। রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। তাঁকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় নি। দেশের মানুষ তাঁকে ও তাঁর দলকে নির্বাচনে জিতিয়ে এনেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এটা অনেকটা ছাগল দিয়ে হালচাষ করার মত ব্যাপার। স্বাভাবিকভাবেই একজন রাজনীতিক না হয়েও তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন এবং তাঁর পরাজয়ে তিনি যদি দেশের মানুষকে গাধা মনে করেন তাতে কওে তাকে কি খুব একটা দোষারোপ করা যায়? মোটেও নয়। তিনি তো তখন ঈশ্বরের কাছাকাছি চলে যান।
শুক্রবার (৬ মে) একটি পডকাস্টে বক্তৃতায় ইমরান খান বলেন ‘যুক্তরাজ্যে আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি কখনই এটাকে আমার বাড়ি বলে মনে করিনি। আমি সর্বদাই প্রথম পাকিস্তানি ছিলাম।’ এ কথা বলে তিনি তাঁর স্বদেশের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন বটে- তাই বলে তিনি জনগনমন নন্দিত নেতা নন- এই দায় তাঁরই। তাঁর অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার দায় দেশের মানুষ নিবে কেন। কিন্তু প্রকারান্তরে ইমরান খান সব দায় দেশটির জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন। অরাজনৈতিক লোকেরা রাজনীতিক চেহারায় আসলে জনগণকে এমনই কটূক্তি শুনতে হয়। এটা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ