গানই এখন ওদের নেশা ও পেশা

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

এম সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর



শখ করে শেখা গানই এখন জীবন জীবিকার পথ খুলে দিয়েছে বাউল শিল্পী বিরেন পাগলা ও লাল ভানুর। শুধু মহাদেবপুরেই নয় সারা নওগাঁ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জীবন জীবিকার জন্য গান গায় তারা। গানই এখন ওদের নেশা ও পেশা। আধুনিকতা ও ব্যান্ড সংগীতের এই যুগেও শেকড় সন্ধানী লালন, পাঞ্জুশাহ, দেহতত্ত্ব ও পালা গান গেয়ে সংসার চলছে ওদের।
বিরেন পাগলা ও লাল ভানু জুটি বেঁধে দীর্ঘদিন ধরে এসব গান গেয়ে এলাকায় ব্যপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন গ্রামীণ উৎসব ও পূজা-পার্বনে এদের ডাক পরে গান গাওয়ার জন্য। একটি অনুষ্ঠানে এক রাত গান গেয়ে এ জুটি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের বিরেন ৩৫ বছর আগে শখ করে ওস্তাদ নূর  মোহাম্মদের কাছে বাউল গান শেখেন। গান শেখার পর থেকেই শখ করে বিভিন্ন স্থানে গান গাওয়া শুরু করলেও এই গানই এখন তার পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গান গেয়েই স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন বিরেন পাগলা। বাউল শিল্পী লাল ভানুর বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের গাজিপুরে। স্বামীর অনুপ্রেরণায় বিরেন পাগলার কাছে গান শেখেন লাল ভানু। স্বামী মারা যাবার পর সংসারের হাল ধরতে ওস্তাদ বিরেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে গান গাওয়া শুরু করেন লাল ভানু। এখন গান গেয়েই মা, ভাই ও বোনসহ ৭ সদস্যের পরিবার চালাচ্ছেন লাল ভানু।
গাজিপুর গ্রামের গানের এক আসরে বাউল শিল্পী বিরেন পাগলা ও লাল ভানু জানান, গান গেয়ে মোটামুটি ভালোভাবেই চলছে তাদের সংসার। টেলিভিশনে গান গাওয়ার খুব ইচ্ছা বলে জানান তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ