গার্ডার দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার দশজন রিমান্ডে

আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২২, ৮:২৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


রাজধানীর উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডার পড়ে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনজনের ৪ দিন এবং সাতজনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আহমেদ শুক্রবার পুলিশের করা রিমান্ড এবং আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানি করে এ আদেশ দেন।

এ মামলায় গত বুধবার রাতে ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার তাদের ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চেয়ে যুক্তি দেন। বিচারক শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

আসামিদের মধ্যে ক্রেইন অপারেটর আল আমিন হোসেন হৃদয় (২৫), তার সহকারী রাকিব হোসেন (২৩) ও ঠিকাদার কোম্পানির সেইফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী শাহকে (৩৯) দশ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক ইয়াসীন গাজী। বিচারক তাদের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আর দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ফোর ব্রাদার্স গার্ড সার্ভিসের ট্রাফিক ম্যান মো. রুবেল (২৮), আফরোজ মিয়া (৫০), হেভি ইকুইপমেন্ট সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ইফসকন বাংলাদেশ লিমিটেডের মালিক ইফতেখার হোসেন (৩৯), হেড অব অপারেশনস আজহারুল ইসলাম মিঠু (৪৫); ক্রেন সরবরাহকারী বিল্ড ট্রেড কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন তুষার (৪২), প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন মৃধা (৩৩) ও মঞ্জুরুল ইসলামকে (২৯) সাত দিন করে রিমান্ডে চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক তাদের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

১৫ অগাস্ট বিকালে রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেটকারের উপর নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রংক্রিটের বক্স গার্ডার আছড়ে পড়লে পাঁচজন নিহত ও দুইজন আহত হন। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

গাড়ির জানালার ধারে থাকা নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনিকে (২১) টেনে বের করে স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে পারলেও ওই পরিবারের আরও পাঁচজন গাড়ির ভেতর আটকে থাকেন তিন ঘণ্টা।

পরে সন্ধ্যায় গার্ডার সরিয়ে হৃদয়ের বাবা রুবেল মিয়া (৬০), রিয়ার মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝর্না (২৮) এবং ঝর্নার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়ার (২) লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার রাতেই নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণা আক্তারের ভাই আফরান মন্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
মামলায় ক্রেইন পরিচালনাকারী চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ সেপ্টেম্বর দিন দিয়েছে পুলিশকে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ