গুটি জাতের আম নামাতে ব্যস্ত চাষি, দাম চড়া

আপডেট: মে ১৪, ২০২২, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম:


রাজশাহীতে আম পাড়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণের পরপরই ব্যস্ততা বেড়েছে চাষী ও ব্যবসায়ীদের। যদিও প্রশাসনের দেয়া সময়ের আগেই রাজশাহীর অনেক বাগানে গুটি জাতের আম পাকতে শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়ের প্রথম দিনে গুটি জাতের আম নামাতে চাষী ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ছিলো। একইসঙ্গে বাজারে চড়া দামে পাঁকা আম বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৩ মে) বাগান থেকে আম নামানোর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে এর কয়েক দিন আগে থেকেই গুটি জাতের দু’একটি গাছ থেকে আম নামিয়েছেন। তারা বলছেন, রাজশাহীতে থেমে থেমে ঝড় বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড় হলেই চাষীদের লোকসান গুনতে হবে।

আর গুটি আমও পুষ্ট হয়ে গেছে। তাই গুটি জাতের আম গাছ থেকে নামাতে তাড়াহুড়ো চলছে। আর এখন আমের দাম ভালো আছে। যেটা আর কিছুদিন পর থেকে কমতে শুরু করবে।

শুক্রবার (১৩ মে) রাজশাহী নগরীর বেশ কয়েকটি বাগান ও বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, আম মোকামগুলোতে বেচাকেনা তেমন জমে নি। তবে ভালো দাম আর ঝড়-বৃষ্টির ক্ষতি এড়াতে গুটি আম গাছ থেকে নামাতে চাষীদের ব্যস্ততা ভালোই ছিলো।

নগরীর কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার একটি বাগান থেকে আম নামাচ্ছিলেন চাষী নাজমুল হাসান। তিনি জানান, এই মৌসুমে তিনি চারটি বাগান কিনেছেন। যেখানে আমের টার্গেট ছিলো ৮০ থেকে ৯০ মণ। কিন্তু এই টার্গেট এবার পূরণ না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আমের দাম ভালো আছে। ক্ষতির শঙ্কা করছি না। তবে বড় ঝড়-বৃষ্টি হলে লোকসান গুনতে হতে পারে।

তিনি জানান, কাঁঠালবাড়িয়ার এই বাগানের গুটি জাতের চারটি গাছ থেকে আম নামিয়েছি। আমের সাইজ ছোট-বড় মিশিয়ে বিক্রি করেছি। এবার আমের সাইজও কিছুটা ছোট। তবে দাম পেলাম মণে একটার ২ হাজার ২০০ টাকা এবং আরেকটা ২ হাজার ৪০০ টাকা। এই আমটার নাম স্থানীয়ভাবে ‘ মেহের চড়া’ ডাকা হয়।

এদিকে নগরীর খুচরা বাজারে চড়া দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে বিভিন্ন নামের গুটি জাতের আম। এদিন বিকালে নগরীর কোর্ট বাজার এলাকায় ফুটপাতে আমের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন মনসুর আলী।

তিনি জানান, বাজারে এখন পর্যন্ত দু’টি গুটি জাতের আম এসেছে। মেহের চড়া ও বৈশাখী। দু’টি আমই খেতে মিষ্টি। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। মেহেরচড়া আম প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বৈশাখী ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন এই ব্যবসায়ী।

অপরদিকে, খিরসাপাত ও গোপালভোগ বলে অন্যজাতের গুটি আম বিক্রি করতেও দেখা গেছে। এনিয়ে গ্রাহকসহ সোনার দেশ প্রতিবেদকের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন নগরীর কোর্টবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী।

ওই দোকানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি আমের বোটায় পচন ধরেছে। অন্যজাতের আমকে খিরসাপাত ও গোপালভোগ বলে বিক্রিও করছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই উগ্র হয়ে উঠেন তিনি। ওই দোকানের কোনো নাম ছিলো না।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই দোকানির ডাকনাম মধু। কোর্ট থেকে বাইপাস সড়কের দিকে যেতে বামের দ্বিতীয় দোকানটি তার। গ্রাহক ঠকানোর কারণে এর আগে জরিমানাও গুনেছেন ওই ব্যবসায়ী।

রাজশাহীতে এবার ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১১ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি আমের গড় মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ধরে অনুমান ৯০০ কোটি টাকার মতো আম বেচাবিক্রির প্রত্যাশা করছে রাজশাহী কৃষি বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আম ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে আম নামানো সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে। যেখানে শুক্রবার (১৩ মে) থেকে গুটি আম নামানো যাবে বলে জানায় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক।

এছাড়া ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ বা লখনা এবং রাণীপছন্দ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আ¤্রপালি ও ফজলি, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারি আম-৪, ১৫ জুলাই থেকে গৌরমতি এবং ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম নামানোর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, ক্রেতাদের বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সে তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার (১৩ মে) থেকে বাগানীরা গুটি জাতের আম নামাতে শুরু করেছে।

তবে বেঁধে দেয়া সময়ের আগে যদি আম পেকে যায় তবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে আম নামানো যাবে। কোনোভাবেই যেন অপরিপক্ক আমে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করা না হয় সে লক্ষেই এমন সিদ্ধান্ত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ