গুদামের চাল পাচারের অভিযোগ || ঘটনা তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হোক

আপডেট: জুন ৩০, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহীর পবা উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সাড়ে তিনশ বস্তা চাল বাইরে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে খাদ্য গুদাম থেকে চাল বের হবার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগ এবং জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। খাদ্য গুদামের নয়-ছয় করার অভিযোগ নতুন কিছু নয়Ñ কিন্তু এগুলোর প্রতিকার সত্যিকার অর্থে হয় না। অর্থাৎ এসব কেলেংকারির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির খুবই কম। ফলে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে। আবার এক সময় তা নিয়ে আর তেমন আর নাড়াচাড়া হয় না।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২৪ মার্চ সরকারি ছুটির দিন শনিবার ছিল। দুপুর দুইটার দিকে রাজশাহী সদর খাদ্য্য গুদামের দুই নম্বর পবা ইউনিটের সাত নম্বর গুদাম থেকে দুই ট্রাক চাল বাইরে বের হবার সংবাদ পেলে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যান। এসময় দেখা যায়, চালভর্তি একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-০৬৩৫) দাঁড়িয়ে আছে। চত্বরের ভেতরে খাদ্য গুদাম থেকে একটু দূরে আরো একটি ফাঁকা ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১১-০৫৫২) অবস্থান করছিলো। গণমাধ্যিমকর্মীদের আসায় দ্রুত ট্রাক দুটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অপরদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গুদাম থেকে চিকন চাল বের করে মোটা চাল ঢোকানোর পরিকল্পনা ছিলো। আর এ কারণেই প্রথমেই চিকন চাল বের করা হচ্ছিলো। এরপর ঈদের লম্বা ছুটিতে সময় আর সুযোগমত মোটা চাল ঢোকানো হত গুদামে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস সালাম বলেন, সদরে ভিজিএফ, ভিজিডি না থাকলেও মূলত র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে আমাদের কাছ থেকে চাল সরবরাহ দেয়া হয়। কিন্তু পবা খাদ্য গুদাম থেকে কী কারণে ট্রাকে চাল লোড করা হচ্ছিলো- সে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এঘটনায় খারাপ কোন উদ্দেশ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে নগরীতে একাধিক বাড়ি, আরডিএ’র শতাধিক দোকান ও নগরীর বিলাসবহুল হোটেল আনজুমসহ অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
খাদ্য কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে ছুটির দিনে ট্রাকে খাদ্য লোডের ব্যাপারটি তাঁর জানা ছিল নাÑ তাঁর বক্তব্য থেকে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, খারাপ কোনো উদ্দেশ্য থেকেই গুদাম থেকে চাল সরানো হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান পবা খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদুকে মামলা আছেÑ এমন একজন ব্যক্তি খাদ্য গুদামের দায়িত্ব পালনকালে এই ঘটনা ঘটলো- যা সন্দেহকে আরো  ঘণীভুত করে। আবার গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেওয়ে দ্রুত ট্রাক নিয়ে পলায়ণের ঘটনা অভিযোগকে আরো দৃঢ় করেছে।
ঘটনা খতিয়ে দেখা দরকার। এর সাথে একের অধিক কর্মকর্তা জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। একটি চক্র এভাবেই গুদামের খাদ্যপণ্য নয়-ছয় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ