গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, দেশে দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা বর্জন

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২১, ১:২২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকার গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশ্বের দেশে দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে। এরইমধ্যে অন্তত অর্ধ ডজন ইউরোপীয় দেশ থেকে ভ্যাকসিনটি বর্জনের ঘোষণা এসেছে।
গত কয়েক দিনে এই টিকার প্রয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে, বুলগেরিয়া, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও থাইল্যান্ড। সর্বশেষ রবিবার এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ স্থগিত রাখবে আমস্টারডাম।
এক বিবৃতিতে ডাচ সরকার জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও নরওয়ে থেকে সম্ভাব্য গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর প্রকাশের পর তারা সাবধানতা অবলম্বন করছে। ডাচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো ডি জনগি বলেছেন, তার দেশ এই ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও সন্দেহ তৈরির সুযোগ দিতে পারে না। তার ভাষায়, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, সবকিছু ঠিক আছে। তাই আপাতত বিরতি দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।’
বিবিসি জানিয়েছে, রোববারের এই সিদ্ধান্তের ফলে নেদারল্যান্ডসের টিকাদান কর্মসূচিও পিছিয়ে পড়বে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই কোটি ২০ লাখ ডোজ টিকা প্রি-অর্ডার করেছিল দেশটি। এরমধ্যে আগামী দুই সপ্তাহে প্রায় তিন লাখ ডোজ ভ্যাকসিন নেদারল্যান্ডসে পৌঁছানোর কথা ছিল।
এর আগে শনিবার নরওয়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নেওয়া তিন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা গেছে। তাদের এখন রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তের প্লেটলেটের স্বল্প সংখ্যার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নরওয়ে ছাড়াও ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কারও কারও শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার বিচ্ছিন্ন খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিন দেশই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের ব্যবহার স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। পরে এই তালিকায় যুক্ত হয় আরও একাধিক দেশ।
লোকজনের রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছে নরওয়েজিয়ান মেডিসিন এজেন্সি। নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের সঙ্গে যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এজেন্সির সিনিয়র চিকিৎসক সিগার্ড হর্টেমো বলেন, এই ঘটনাগুলো ভ্যাকসিনের সঙ্গে যুক্ত কিনা সেটি আমাদের জানা নেই। রয়টার্স জানিয়েছে, নরওয়েতে এমন উপসর্গ দেখা দেওয়া তিন স্বাস্থ্যকর্মীর সবার বয়স ৫০ বছরের মধ্যে। সিগার্ড হর্টেমো জানিয়েছেন, ইউরোপের মেডিসিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) এই তিনজনের ঘটনা নিয়ে তদন্তকাজ পরিচালনা করবে।
সম্প্রতি অস্ট্রিয়াতেও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের একটি ব্যাচ প্রয়োগ বাতিলের ঘোষণা আসে। দেশটিতে ভ্যাকসিন নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় এক নারীর মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ট্রিয়ার এই ব্যাচটি ইউরোপের ১৭টি দেশে পাঠানো এবিভি৫৩০০ নামের ব্যাচের ১০ লাখ ডোজের অংশ। এস্টোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও লুক্সেমবার্গও ওই ব্যাচটির প্রয়োগ বাতিল করেছে।
কী বলছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা? : অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের ভ্যাকসিনের কারণে লোকজনের রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যাস্ট্রাজেনেকার চিফ মেডিকেল অফিসার আন টেলর বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ আমাদের ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা কয়েকশ-এরও কম।
কোম্পানিটি বলছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভ্যাকসিনটির সুরক্ষার বিষয়টি গভীরভাবে গবেষণা করা হয়েছে। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, রোগীর সুরক্ষাকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়। ওষুধ নিয়ন্ত্রকরা ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মান মেনেই ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পিয়ার রিভিউ করা তথ্যেও দেখা গেছে সাধারণভাবে শরীরের জন্য ভালো সহিষ্ণু।
যুক্তরাজ্যের মেডিসিন্স অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি বলছে, ভ্যাকসিন সমস্যা তৈরি করছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। মানুষের উচিত ভ্যাকসিন নেওয়া। সংস্থাটির ফিল ব্রায়ান বলেন, রক্তে জমাট বাঁধা স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে এবং এটি অস্বাভাবিক না। যুক্তরাজ্যজুড়ে এক কোটির বেশি মানুষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়েছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ)। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, ভ্যাকসিনটির কিছু ঝুঁকি থাকলেও এর সুবিধা তার চেয়েও বেশি। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ