গুরুদাসপুরে দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে সবাই একসঙ্গে ভূরিভোজ

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর  প্রতিনিধি



চটের ওপর সারিবদ্ধ গ্রামবাসি। বাবু দিয়ে বসা।  চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতাকর্মি, ব্যবসায়ী আর খেটে খাওয়া মানুষ মিলিত হয়েছেন এক সম্প্রীতির ভূরিভোজে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের খাবার হিসাবে আয়োজন করা হয়েছে ডাল, মাংসভাত আর দই।
তবে এই ভূরিভোজের আয়োজন গ্রামের কোন রাজনৈতিক-সামাজিক উৎসবকে ঘিরে নয়। গ্রামবাসির দ্বন্দ্ব বিবাদ-প্রতিহিংসার অধ্যয়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতেই এই ভূরিভোজের আয়োজন ছিল। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের আত্রাই নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা সাবগাড়ী গ্রামে ছিল সম্প্রীতির এই আয়োজন। বিয়াঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, আর ওই গ্রামের দুই কৃতীমূখ নাটোর জেলা আ’লীগের তথ্য গবেষণা সম্পাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও প্রভাষক মো. মাজেম আলীর নেতৃত্বে গ্রামবাসির মিলবন্ধনের উদ্যোগ নেন।
গ্রামবাসী সুত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামের আব্দুল হান্নান ও রওশন আলীর মধ্যে প্রায় বছর জুড়ে বিবাদ চলে আসছিল। এক পর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হয়। জড়িয়ে পড়ে পরষ্পর বিরোধী মামলায়। গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গ্রেফতার আতঙ্ক।
গ্রামে নেতৃত্বদানকারি হান্নান ও রওশন আলী জানালেন, পরস্পর বিরোধী মামলা চলার কারণে তাদের পরিবার ও গ্রামে শান্তি ছিল না। সমর্থকদের চিকিৎসা, মামলার খরচ যোগাতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন তারা। তাছাড়া ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা চাকরি প্রাপ্তি এবং সন্তানদের বিয়ের ক্ষেত্রে গিয়ে সম্মানহাণীতে পড়তে হয়েছে তাদের। সব দিক বিবেচনা করেই তারা সম্প্রীতির পথ বেছে নিয়েছেন। সম্মিলিতভাবে গ্রামের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক হয়ে কাজ করবেন। এ কারনে উভয় পক্ষই সমান টাকা দিয়ে গ্রামের মানুষের জন্য ভূড়িভোজের উদ্যোগ নেন।
ভূড়িভোজে উপস্থিত থাকা আনোয়ার হোসেন ও প্রভাষক মাজেম আলী জানালেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ খেটে খাওয়া  নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। বিরোধে জড়িয়ে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। এতে সংসার ও সন্তানদের পড়া লেখা চালিয়ে নিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল তারা। শান্তি স্থাপন ও তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়।
বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রামের নিরীহ মানুষের কথাভেবে তিনদফা ইউপি কার্যালয়ে বৈঠক করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের সম্মতি নিয়ে গতকাল গ্রামে প্রীতি সম্মেলন ও ভূড়িভোজের উদ্যোগ নেয়া হয়। সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা ও মামলার খরচসহ প্রত্যাহারের মাধ্যমে গ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ