গুরুদাসপুরে নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই ব্যক্তির দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি!

আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুরে একই ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তির নাম জয়নাল আবেদীন। তিনি পৌর সদরের রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজে আইসিটি শিক্ষক (ইনডেক্স নম্বর-৬১৯৭৭৯) হিসেবে চাকরি করেন দুই হাজার সাল থেকে।
পাশাপাশি চাঁচকৈড় নাজিম স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে আর্থিক আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এমপিও নীতিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য শিক্ষক-কর্মচারীগণ একই সাথে একাধিক স্থানে চাকুরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোন পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।’ অথচ সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধা লাভের আশায় দুইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন তিনি।
চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, আইসিটি শিক্ষক জয়নাল আবেদীন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই পদাধিকার বলে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতার কাগজে স্বাক্ষর করছেন। অধ্যক্ষ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানিভাতাও নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠান থেকে। এজন্য পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনও রয়েছে।
এ ব্যাপারে দুই প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী জয়নাল আবেদীন বলেন, পদাধিকার বলে প্রতিষ্ঠানের সকল আয়-ব্যয়সহ কাগজপত্রে স্বাক্ষরসহ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে রেজুলেশন করে পাঁচ হাজার টাকা করে সস্মানি ভাতা নেয়ার অনুমোদন দেয়া হলেও তা নিচ্ছেন না বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আরো অনেকেই আমার মতো একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করছেন। আমি করলে দোষের কী?
চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, স্কুল শাখার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু থাকলেও কলেজ শাখার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা হয় নি। বিধি অনুসরণ করে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি কোন ভাতা নিচ্ছেন না অধ্যক্ষ।
রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, জয়নাল আবেদীন তাঁর প্রতিষ্ঠানের আইসিটি শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন। সরকারি বেতনও উত্তোলন করছেন। অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, একই ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিধান নেই। কোন শিক্ষক এটা করে থাকলে তা চাকরিবিধির পরিপন্থী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।