গুরুদাসপুরে নেতা নির্বাচনে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভোট উৎসব

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি



নাটোরের গুরুদাসপুরে উৎসবমূখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ছাত্র সংসদের নির্বাচন। গতকাল শনিবার গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুদের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা বিকশিত করা, নেতৃত্ব গঠন ও নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ ভোট নেয়া হচ্ছে। নির্বাচিতরাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাঠে ক্ষুদে ছাত্রছাত্রীরা ভোট দেয়ার জন্য লম্বা লাইন ধরেছে। কক্ষের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং ও পোলিং এজেন্ট ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে কাব-স্কাউটিংয়ের দল। দায়িত্ব পালনকারিরা সকলেই ক্ষুদে শিক্ষার্থী। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ছাত্রদের মধ্যে থেকে একজন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বও পালন করছে। কোন রকম উত্তাপ ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ৩০২ জন ভোটার রয়েছে। তার মধ্যে ছাত্রী ভোটার সংখ্যা ১২৯ জন। ২১জন সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এদের মধ্যে নির্বাচিত হবে সাতজন। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে দুইজন করে এবং সংরক্ষিত পদে একজন।
নির্বাচন কমিশন ও প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে মেহেরুন্নার মীম জানায়, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কী, কেমন করে হয় তা জানা নেই তাদের। কখনো দেয়া হয় নি। নিজেদের ভোট নিজেরাই গ্রহণ করছি। এটা অন্য রকম অনুভূতি। এটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
ভোটে অংশগ্রহণকারী নাফিজ ইমতিয়াজ, সুজয়কুন্ডু, আয়শা বিনতে আতিক ও ফারিহা ইসলাম তুলি জানায়, এ বয়সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ও ভোট দিতে পারায় খুব আনন্দ লাগছে। নির্বাচিত হয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নানা রকম সুযোগ সুবিধার বিষয়ে কাজ করবো।
কয়েকজন অভিভাবকরা জানান, এ ভোট শুধু শ্রেণিকক্ষের নেতৃত্বই দেবে না। নতুন নেতৃত্ব গঠনেও ভূমিকা রাখবে কোমলমতি এসব শিশুরা।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মুর্তজা জানান, ভোটগ্রহণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই নির্দেশনামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের এই ভোটে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্দীপনা দেখা গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯০টি প্রতিষ্ঠানে গত ১৫ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ছাত্র সংসদের নির্বাচন শুরু হয়। ইতোমধ্যে ৫০ ভাগ বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।