গুরুদাসপুরে পরপর তিন ভাইবোনের আত্মহত্যা

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের তিন ভাই বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় ওই বাড়িতে নিঃসন্তান বাবা মা ছাড়া আর কেউ রইলো না। স্থানীয়দের মতে তাদের মৃত্যুর কারণ অসচেতনতা ও পারিবারিক কলহই দায়ি। গত শুক্রবার গভীর রাতে ওই পরিবারের শেষ সন্তান গৃহবধূ শান্তনাও আত্মহত্যা করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুর পৌর সদরের নারীবাড়ি মহল্লার ছিটকাপড় ব্যবসায়ী সুকচান আলীর মেয়ে শান্তনা (১৭) শুক্রবার গভীর রাতে আগের দুই ভাইবোনের মতো গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। দুই বছর আগে চাটমোহরের মিন্টু বিশ^াসের সাথে মোবাইলে প্রেম হয় শান্তনার। অতঃপর বিয়েও হয় তাদের। কিন্তু শান্তনা জানতো না মিন্টুর ঘরে আগের বউ সন্তান আছে। এ ভুলের কারণে স্বামী মিন্টুর সঙ্গোতার দুরত্ব বাড়ে। সেই সঙ্গে বাড়ে পারিবারিক কলহ। বাপের বাড়ি থাকা অবস্থায় ওই রাতে আত্মহত্যা করে শান্তনা।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমান জানান, পাঁচ বছর আগে শান্তনার বড় বোন শাপলা (১৫) এবং তারও তিন বছর আগে শান্তনার বড় ভাই পলাশ (১৪) গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। এভাবেই একই পরিবারের পরপর তিন ভাই বোনের মৃত্যুতে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে ওই একই রাতে উপজেলার সাবগাড়ি এলাকায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রী ইতিয়ারা বেগম (২০) পাঁচ মাসের পুত্রসন্তান রেখে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। ইতিয়ারার চাচা অধ্যক্ষ (অব.) ওমর আলী বলেন, বিয়ের সময় ইতিয়ারার স্বামী এনামুলকে ৮ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। তারপরও সে আরো যৌতুকের জন্য ইতিয়ারাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ইতিয়ারা আত্মহত্যা করে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরের দিকে শান্তনা ও ইতিয়ারার লাশ উদ্ধার করে নাটোর মর্গে পাঠিয়েছে। থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। তাদের আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।